ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সরিষাবাড়ীতে দোয়া মাহফিল ওলামাদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের আহ্বায়ক হলেন কাজী মসিউর জামালপুর- ৪ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সিপিবির জুয়েল একজন শাহীনা সোবহান মিতু : আমাদের আলোকবর্তিকা জামালপুরে অনূর্ধ-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু সরিষাবাড়ীতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান জামালপুরে শাহীনা সোবহানের ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন গণভোটে প্রচারণা সংস্কারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের অংশ : আসিফ নজরুল জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন

ব্যতিক্রমী আয়োজনে মেলান্দহ উপজেলায় এতিম রহিমার বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস

মেলান্দহ : মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস, কনে রহিমা আক্তার, কনের দাদা জিন্না মিয়া, বর সুলতান মিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলাম। ছবি : মুত্তাছিম বিল্লাহ

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় শিশুকালে মা-বাবা হারিয়ে দাদার কুলে ঠাই নেয়া রহিমা আক্তারকে (১৮) ধুমধাম আয়োজন করে বিয়ে দিয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত মামুন বিশ্বাস।

১০ ডিসেম্বর, বুধবার বিকালে নাংলা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকায় রহিমা আক্তারের দাদার বাড়িতে তার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে দুই লাখ ১৪ হাজার টাকা খরচ করে রহিমা আক্তারকে বিয়ে দেওয়া হয় জামালপুর সদর উপজেলার হাটচন্দ্রা এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে সুলতান মিয়ার সঙ্গে। রহিমা আক্তার ও সুলতান মিয়ার ব্যতিক্রমী এই বিয়ে এলাকা জুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বিয়ে উপলক্ষ্যে রহিমা আক্তারকে পার্লার থেকে বিউটিশিয়ান ডেকে নিয়ে বেশ জাঁকজমকভাবে বধূ সাজে সাজানো হয়। বিয়ের জন্য ১০ ডিসেম্বর বাসুদেবপুর এলাকায় রহিমা আক্তারের দাদার বাড়িতে সাজানো হয় ডেকোরেশনের সামিয়ানা, চেয়ার, টেবিল ও বরের আসন। পাশেই চলতে থাকে মেহমানদের জন্য খাবারের আয়োজন। দুপুর হলে বর সুলতান মিয়া দু’টি মাইক্রোবাস নিয়ে হাজির হন মেয়ের দাদার বাড়িতে। আংটি পরিয়ে নামানো হয় বর সুলতান মিয়াকে।

মেলান্দহ : বরের সাথে এক থালায় খাবার খাচ্ছেন মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত মামুন বিশ্বাস। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অন্যদিকে পাত্রী রহিমা আক্তারকে নিয়ে প্রতিবেশীদের কণ্ঠে গীতের সুর সব মিলিয়ে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কোন কমতি ছিল না রহিমার বিয়ের আয়োজনে। তার বিয়ের আয়োজন দেখতে প্রতিবেশী অনেকেই ভিড় করেন বিয়ে বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকার রহিমা আক্তারের বয়স যখন দুই বছর তখন ঢাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা রফিকুল ইসলাম মারা যান। রহিমা আক্তারের বাবা মারা যাওয়ার তিন বছর পর তার মা হাফিজা বেগমও মারা যান। সংসারে থাকে দুই নাবলক শিশু রহিমা আক্তার ও তার বড় ভাই হাফিজুর। দুই এতিম শিশুর দায়িত্ব পড়ে রিকশাচালক দাদা জিন্নাহ মিয়ার উপর। রিকশা চালিয়ে যে উপার্জন হত তা দিয়েই দুই নাতিকে লালন পালন করতে থাকেন দুই নাতিকে।

জিন্নাহ মিয়া বৃদ্ধ হয়ে গেলে সংসার অচলাবস্থা দেখা দেয়। রহিমা আক্তারের বড় ভাই সংসারের অভাবে মেটাতে বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন। এদিকে স্থানীয় একটি স্কুলে লেখা পড়া করে রহিমা আক্তার বড় হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য দাদার কপালে ভাজ পড়ে। বিভিন্ন জায়াগা থেকে রহিমা আক্তারের বিয়ের সম্মন্ধ আসলেও অর্থের অভাবে নাতি রহিমা আক্তারকে পাত্রস্থ করতে পারছিলেন না দাদা জিন্নাহ মিয়া। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত মামুন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে মামুন বিশ্বাস নিজে বিষয়টি দেখে বিয়ের দায়িত্ব নেন।

বিয়েতে বর পক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিবেশীদেরও বিয়েতে দাওয়াত দেওয়া হয়। বিয়েতে সবজি, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস ও দই দিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়। রহিমা আক্তারের জন্য কেনা হয় বিয়ের শাড়ি, হলুদের কাপড়, জুতা ও কসমেটিক্সসহ বিয়ের বিভিন্ন ব্যবহারের সামগ্রী। সেই সাথে একটি আলমারি, সুকেস, ড্রেসিং টেবিল, আলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার একটি বড় বাক্সসহ একটি নতুন সংসার বাঁধতে যা যা প্রয়োজন সবই কিনে দেন মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা। বিয়েতে রহিমা সুলতানের সংসারে একটি গরুও উপহার দেওয়া হয়।

বিয়ের দাওয়াতে অংশ নেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে মামুন বিশ্বাস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলামসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের জিনিসপত্র, নগদ অর্থসহ রহিমাকে সুলতান মিয়ার হাতে তুলে দেন।

এই বিয়ে প্রসঙ্গে নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা কিসমত পাশা বলেন, এর আগেও মামুন বিশ্বাস এই ইউনিয়নে আরেকটি এতিম মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আরও একটা অসহায় এতিম মেয়ের বিবাহবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিলেন। তাদের পরিবার স্বচ্ছল করার জন্য এত বড় একটা উদ্যোগ ও অনুষ্ঠান জীবনে খুব কম দেখেছি। বেশ কয়েক বছর ধরে মামুন বিশ্বাস বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা যেন ভবিষ্যতে এ রকম আরও ভাল কাজ করে যেতে পারেন তাদের জন্য সফলতা কামনা করছি।

এমন ব্যতিক্রমী বিয়ে হওয়ায় আনন্দিত হয়ে রহিমা আক্তার বলেন, ছোট বেলায় মা-বাবা মারা যাওয়ার পর কোনোদিনও কল্পনা করিনি এমন আয়োজন করে আমার বিয়ে হবে। মামুন বিশ্বাস ভাইসহ যারা কষ্ট করে বিয়ের আয়োজন করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
বর সুলতান মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল একটা এতিম মেয়ে বিয়ে করার। আজ অনেক দিনের একটি আশা পূরণ হল। এতিম বলে কোন কথা না। মেয়েটা যদি ভাল হয় তাহলেই সব ভাল। দাম্পত্য জীবনে সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করেন তিনি।

রহিমা আক্তারের দাদা জিন্নাহ মিয়া বলেন, আমার নাতির বিয়েতে এত মানুষ হবে, আর এমন আয়োজন হবে কোন দিন ভাবতেও পারি নাই। ভিন্ন একটি জেলার মানুষ মামুন বিশ্বাস ভাই সে এত বড় করে আয়োজন করেছেন। তাকে যেন আল্লাহ ভাল রাখেন। আজ আমার নাতির বিয়ে হওয়াতে বুকটা হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে অনেক বড় একটি কাজ হয়ে গেল।

স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলাম বলেন, রহিমা আক্তারের বিষয়টি জানতে পেরে মামুন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করি। মামুন বিশ্বাস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আজ এমন আয়োজনের সুযোগ হয়েছে। অর্থের অভাবে যাতে কোন এতিম মেয়ের বিয়ে ঠেকে না থাকে সে দিকে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। সমাজের বিত্তবানদের এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাই।

মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত সিরাজগঞ্জের মামুন বিশ্বাস বলেন, রহিমা আক্তারের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। ফেসবুকের পোস্ট দেখে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ সর্বমোট দুই লাখ ১৪ হাজার টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে রহিমা আক্তারের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী অনেক সহায়তা করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রহিমা আক্তারের মত যেসব বোন আছে। যাদের অর্থের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা

ব্যতিক্রমী আয়োজনে মেলান্দহ উপজেলায় এতিম রহিমার বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস

আপডেট সময় ১১:২৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় শিশুকালে মা-বাবা হারিয়ে দাদার কুলে ঠাই নেয়া রহিমা আক্তারকে (১৮) ধুমধাম আয়োজন করে বিয়ে দিয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত মামুন বিশ্বাস।

১০ ডিসেম্বর, বুধবার বিকালে নাংলা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকায় রহিমা আক্তারের দাদার বাড়িতে তার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে দুই লাখ ১৪ হাজার টাকা খরচ করে রহিমা আক্তারকে বিয়ে দেওয়া হয় জামালপুর সদর উপজেলার হাটচন্দ্রা এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে সুলতান মিয়ার সঙ্গে। রহিমা আক্তার ও সুলতান মিয়ার ব্যতিক্রমী এই বিয়ে এলাকা জুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বিয়ে উপলক্ষ্যে রহিমা আক্তারকে পার্লার থেকে বিউটিশিয়ান ডেকে নিয়ে বেশ জাঁকজমকভাবে বধূ সাজে সাজানো হয়। বিয়ের জন্য ১০ ডিসেম্বর বাসুদেবপুর এলাকায় রহিমা আক্তারের দাদার বাড়িতে সাজানো হয় ডেকোরেশনের সামিয়ানা, চেয়ার, টেবিল ও বরের আসন। পাশেই চলতে থাকে মেহমানদের জন্য খাবারের আয়োজন। দুপুর হলে বর সুলতান মিয়া দু’টি মাইক্রোবাস নিয়ে হাজির হন মেয়ের দাদার বাড়িতে। আংটি পরিয়ে নামানো হয় বর সুলতান মিয়াকে।

মেলান্দহ : বরের সাথে এক থালায় খাবার খাচ্ছেন মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত মামুন বিশ্বাস। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অন্যদিকে পাত্রী রহিমা আক্তারকে নিয়ে প্রতিবেশীদের কণ্ঠে গীতের সুর সব মিলিয়ে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কোন কমতি ছিল না রহিমার বিয়ের আয়োজনে। তার বিয়ের আয়োজন দেখতে প্রতিবেশী অনেকেই ভিড় করেন বিয়ে বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকার রহিমা আক্তারের বয়স যখন দুই বছর তখন ঢাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা রফিকুল ইসলাম মারা যান। রহিমা আক্তারের বাবা মারা যাওয়ার তিন বছর পর তার মা হাফিজা বেগমও মারা যান। সংসারে থাকে দুই নাবলক শিশু রহিমা আক্তার ও তার বড় ভাই হাফিজুর। দুই এতিম শিশুর দায়িত্ব পড়ে রিকশাচালক দাদা জিন্নাহ মিয়ার উপর। রিকশা চালিয়ে যে উপার্জন হত তা দিয়েই দুই নাতিকে লালন পালন করতে থাকেন দুই নাতিকে।

জিন্নাহ মিয়া বৃদ্ধ হয়ে গেলে সংসার অচলাবস্থা দেখা দেয়। রহিমা আক্তারের বড় ভাই সংসারের অভাবে মেটাতে বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন। এদিকে স্থানীয় একটি স্কুলে লেখা পড়া করে রহিমা আক্তার বড় হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য দাদার কপালে ভাজ পড়ে। বিভিন্ন জায়াগা থেকে রহিমা আক্তারের বিয়ের সম্মন্ধ আসলেও অর্থের অভাবে নাতি রহিমা আক্তারকে পাত্রস্থ করতে পারছিলেন না দাদা জিন্নাহ মিয়া। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত মামুন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে মামুন বিশ্বাস নিজে বিষয়টি দেখে বিয়ের দায়িত্ব নেন।

বিয়েতে বর পক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিবেশীদেরও বিয়েতে দাওয়াত দেওয়া হয়। বিয়েতে সবজি, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস ও দই দিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়। রহিমা আক্তারের জন্য কেনা হয় বিয়ের শাড়ি, হলুদের কাপড়, জুতা ও কসমেটিক্সসহ বিয়ের বিভিন্ন ব্যবহারের সামগ্রী। সেই সাথে একটি আলমারি, সুকেস, ড্রেসিং টেবিল, আলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার একটি বড় বাক্সসহ একটি নতুন সংসার বাঁধতে যা যা প্রয়োজন সবই কিনে দেন মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা। বিয়েতে রহিমা সুলতানের সংসারে একটি গরুও উপহার দেওয়া হয়।

বিয়ের দাওয়াতে অংশ নেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে মামুন বিশ্বাস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলামসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের জিনিসপত্র, নগদ অর্থসহ রহিমাকে সুলতান মিয়ার হাতে তুলে দেন।

এই বিয়ে প্রসঙ্গে নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা কিসমত পাশা বলেন, এর আগেও মামুন বিশ্বাস এই ইউনিয়নে আরেকটি এতিম মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আরও একটা অসহায় এতিম মেয়ের বিবাহবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিলেন। তাদের পরিবার স্বচ্ছল করার জন্য এত বড় একটা উদ্যোগ ও অনুষ্ঠান জীবনে খুব কম দেখেছি। বেশ কয়েক বছর ধরে মামুন বিশ্বাস বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা যেন ভবিষ্যতে এ রকম আরও ভাল কাজ করে যেতে পারেন তাদের জন্য সফলতা কামনা করছি।

এমন ব্যতিক্রমী বিয়ে হওয়ায় আনন্দিত হয়ে রহিমা আক্তার বলেন, ছোট বেলায় মা-বাবা মারা যাওয়ার পর কোনোদিনও কল্পনা করিনি এমন আয়োজন করে আমার বিয়ে হবে। মামুন বিশ্বাস ভাইসহ যারা কষ্ট করে বিয়ের আয়োজন করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
বর সুলতান মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল একটা এতিম মেয়ে বিয়ে করার। আজ অনেক দিনের একটি আশা পূরণ হল। এতিম বলে কোন কথা না। মেয়েটা যদি ভাল হয় তাহলেই সব ভাল। দাম্পত্য জীবনে সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করেন তিনি।

রহিমা আক্তারের দাদা জিন্নাহ মিয়া বলেন, আমার নাতির বিয়েতে এত মানুষ হবে, আর এমন আয়োজন হবে কোন দিন ভাবতেও পারি নাই। ভিন্ন একটি জেলার মানুষ মামুন বিশ্বাস ভাই সে এত বড় করে আয়োজন করেছেন। তাকে যেন আল্লাহ ভাল রাখেন। আজ আমার নাতির বিয়ে হওয়াতে বুকটা হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে অনেক বড় একটি কাজ হয়ে গেল।

স্বেচ্ছাসেবক জাকিরুল ইসলাম বলেন, রহিমা আক্তারের বিষয়টি জানতে পেরে মামুন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করি। মামুন বিশ্বাস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আজ এমন আয়োজনের সুযোগ হয়েছে। অর্থের অভাবে যাতে কোন এতিম মেয়ের বিয়ে ঠেকে না থাকে সে দিকে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। সমাজের বিত্তবানদের এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাই।

মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত সিরাজগঞ্জের মামুন বিশ্বাস বলেন, রহিমা আক্তারের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। ফেসবুকের পোস্ট দেখে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ সর্বমোট দুই লাখ ১৪ হাজার টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে রহিমা আক্তারের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী অনেক সহায়তা করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রহিমা আক্তারের মত যেসব বোন আছে। যাদের অর্থের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।