খুন, ধর্ষণ, ঘুষ, দুর্নীতি, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ সামাজিক অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় জামালপুরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের মানববন্ধনে। জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক ও স্ক্রিপ্ট প্রজেক্ট ১০ ডিসেম্বর, বুধবার জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জেলা মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় পাইলাম। কিন্তু ৫৪ বছরেও শান্তি পাইলাম না। যেকোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। নৈতিকতা আর মূল্যবোধের অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে বার বার ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে অধিকাংশ সময়। দখলবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নয়নের নামে অবাধে দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের করের টাকা দুর্বৃত্তরা বিদেশে পাচার করেছে। ব্যাংক লুট করা হয়েছে। ১৯৯০ এবং ২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষ ভেবেছিল এবার বুঝি মুক্তি আসবে। নিরাপদে শান্তিতে থাকতে পারবে। শান্তি আসে নাই। মুক্তি মিলে নাই।
তিনি জামালপুরে গত এক বছরে সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ছোট্ট এ জেলাতে ৬০ টি ধর্ষণ, ২৫টি খুনসহ হাজারও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। দারিদ্রতা, বেকারত্বের হার হু হু করে বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়েই চলেছে। এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও জানাচ্ছি। বৃটিশ, পাকিস্তানীদের দানবীয় শাসন ব্যবস্থার বদলে স্বাধীন দেশের উপযোগী আইন প্রণয়ন ও শাসন কায়েমে রাজনীতিবিদদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
দয়াময়ী মোড়ে অনুষ্ঠিত আরও বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ আমির উদ্দিন, প্রভাষক আশরাফুজ্জামান স্বাধীন, মানবাধিকারকর্মী সামসুদ্দিন, স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপক লিটন সরকার, উন্নয়ন সংঘের মনিটরিং অফিসার রেজাউল করিম, তৃতীয় লিঙ্গের কিরনমালা, গৃহকর্মী জাকিলা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মানবাধিকারকর্মী মুর্শেদ ইকবাল।
কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে উন্নয়ন সংঘ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, বিএসআরএম। এতে অংশ নেন সিডস কর্মসূচি, জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম, আসকসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















