মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে সামাজিক জাগরণ তৈরির কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে জামালপুর জেলা মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক (ডিএইচআরডিএন) এর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উন্নয়ন সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ডিটিআরসির শেওলা সভাকক্ষে এ উপলক্ষে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাহাঙ্গীর সেলিমকে সভাপতি এবং আরজু মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা মানবাধিকার কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার রক্ষাকারী কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সেলিম। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী টিপু সুলতান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা কামরুন্নাহার, জামালপুর সদর থানার পরিদর্শক তদন্ত নূর মোহাম্মদ, উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল আলম মোল্লা, উপনির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা, পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের এম্পাওয়ারহার প্রকল্পের কর্মকর্তা মনির হোসেন প্রমুখ।সভা সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার রক্ষাকারী কমিটির সদস্য সচিব আরজু মিয়া। সভায় জেলা বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ৫৪ জন মানবাধিকার রক্ষাকারী ব্যক্তি অংশ নেন।

মুখ্য আলোচক টিপু সুলতান বলেন, মানবাধিকার রক্ষাকারী কমিটির সদস্যরা মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার নীতিতে কাজ করে মানবাধিকার সুরক্ষায় নেতৃত্ব দেয়। ডিএইচআরডি-রা মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, তদন্ত, ভুক্তভোগী সহায়তা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারী, প্রান্তিক ও পরিবেশ অধিকার রক্ষাকারীদের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
লঙ্ঘনের সাধারণ উৎস : নিরাপত্তা সংস্থা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। এমএসএফ ডিএইচআরডিনেটওয়ার্ক বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) ও সংখ্যালঘু নির্যাতন পর্যবেক্ষণ করে।
এমএসএফ এমপাওয়ার’হার প্রকল্প ৭ জেলা, ৭ উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) ও ৬৭ উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ)-এর মাধ্যমে নারীর নেতৃত্ব ও জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিডি) প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে। ডিএইচআরডিএন পুনর্গঠন জেলাপর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ও মানবাধিকার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করবে।
জেলা মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করে উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল আলম মোল্লা বলেন, জেলাপর্যায়ের মানবাধিকার নেটওয়ার্ককে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল করতে এর পুনর্গঠন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) এর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, কমিউনিটি-স্তরের জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) অ্যাডভোকেসিকে জেলাপর্যায়ের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের সাথে সংযুক্ত করা এবং জেলাপর্যায়ে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
মূল উদ্দেশ্যসমূহ : উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) কে ডিএইচআরডিএন কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ের কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। জেলা পর্যায়ের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে কমিউনিটি-ভিত্তিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ ও এডভোকেসি কার্যক্রমের সমন্বয় এবং কার্যকর সংযোগ স্থাপন। জেলা পর্যায়ের মানবাধিকার এডভোকেসি প্রক্রিয়ায় নারীর নেতৃত্ব, অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা শক্তিশালী করা।

প্রয়োজনীয়তা ও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধারণাপত্র উপস্থাপনে বলা হয়, বর্তমানে ডি-এইচআরডিএন জেলা পর্যায়ে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের একটি কাঠামো হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তৃণমূল স্তরের প্রতিনিধিত্ব এবং জেন্ডারভিত্তিক বিষয়ক অন্তর্ভুক্তি সীমিত। অপরদিকে, এমপাওয়ার’হার প্রকল্পের আওতায় সাতটি উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) এবং ৬৮টি ইউনিয়নে জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) দ্বারা গঠিত একটি শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক কার্যকর রয়েছে, যা নারীর নেতৃত্ব, জেন্ডার সমতা, জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিডি) প্রতিরোধ এবং বাল্য বিবাহ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সব সুফল নিশ্চিত করা হবে- জেলা-স্তরের অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধি, জেলা-উপজেলা সমন্বয় ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহিতাকে কেন্দ্র করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সক্ষম ও টেকসই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা।
উল্লেখ, সুইজারল্যান্ড, কানাডার আর্থিক অনুদানে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহযোগিতায় জামালপুরে ডিএইচআরডিএন ও এম্পাওয়ারহার প্রকল্প দু‘টি উন্নয়ন সংঘ বাস্তবায়ন করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















