খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে জামালপুরে ‘হুমায়ূন আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পপতিবার দুপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে গ্রন্থকাননের উন্মুক্ত মাঠে কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘রিডার্স ক্লাব’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘হুমায়ূন আড্ডা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের জাদুকরী লেখা পড়ে শিক্ষার্থীরা বইয়ের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠে। রিডার্স ক্লাব হুমায়ূন আড্ডার মাধ্যমে তার লেখাগুলোকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি নি:সন্দেহে প্রশংসনীয়। এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত।
রিডার্স ক্লাবের মুখ্য সমন্বয়ক হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রবিউল আলম লুইপার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষক সংসদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, রিডার্স ক্লাবের উপদেষ্টা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই আলহাদী, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনোয়ার হুসেন মুরাদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাকের আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
পরে অতিথিরা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কাটেন। এরপর হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীদের মাছে পুরস্কার হিসাবে হুমায়ূন আহমেদের বই উপহার দেওয়া হয়। এছাড়াও হুমায়ূন আড্ডায় কলেজের শিক্ষার্থীরা হুমায়ূন আহমেদের গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করেন।
রিডার্স ক্লাবের সদস্য ও বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, স্কুল জীবন থেকেই হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ি। তার উপন্যাসের চরিত্রগুলো আমাদের জীবনের সাথে মিলিয়ে নিতে পারি। তার লেখা আর চরিত্রগুলোকে কল্পনায় ভাবতে পারি।

উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, বইমেলা থেকে কিনে হুমায়ূন আহমেদের বই প্রথম পড়ি। তার উপন্যাসের চরিত্রগুলো আমাদের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে। তার লেখাগুলো পড়লে মনে হয় উপন্যাসটি এতো দ্রুত শেষ হয়ে গেল কেন। তার উপন্যাসের শেষাংশগুলো আমার মনে দাগ কাটে।
হুমায়ূন আড্ডা আয়োজন নিয়ে রিডার্স ক্লাবের মূখ্য সমন্বয়ক রবিউল আলম লুইপা বলেন, রিডার্স ক্লাব সদস্যদের বই বিতরণ ও বই পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিকদের স্মরণ করে থাকে। বাংলা সাহিত্যে নতুন নতুন পাঠক সৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে হুমায়ূন আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে। আজকের আয়োজনকে ঘিরে সদস্যদের মাঝে অনেক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
শিক্ষার্থীরা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্রকে স্মরণ করতে হলুদ পাঞ্জাবী ও নীল শাড়ি পড়ে আড্ডায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
আসমাউল আসিফ : নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম 


















