শেরপুরের নকলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরালের পর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুমকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর জেলা শাখার অধীনস্থ নকলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুমকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রদান করেন।
এদিকে ৬ নভেম্বর বিকালে শেরপুর শহরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনের সড়কে চারটি সংগঠনের ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সালমা লাইজু, উপ-পরিচালক সালমা আক্তার, তেল জাতীয় প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ মনিটরিং কর্মকর্তা খায়রুল আমীন শোয়েব, পার্টনার প্রকল্পের ড. সালাউদ্দিন কায়সার, শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে উপস্থিত ছিলেন।

মানবনবন্ধনে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ দপ্তরে শাহরিয়ার মোরসালিনের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার ও হুমকির। তাই অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির জোর দাবি
জানাচ্ছি।
দাবিগুলো হল- এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কর্মস্থলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রণোদনা কর্মসূচি চলাকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

এদিকে ৬ নভেম্বর রাত ১১ টায় নকলা উপজেলা বিএনপি এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক দুলাল। তিনি এ নিন্দনীয় ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অনাকাঙ্খিত ও নিন্দনীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটাতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর, শেরপুরের প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে অধিদপ্তর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৬ নভেম্বর বিকালে জানানো হয়, নকলা উপজেলার ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুমকে সরকারি কৃষি প্রণোদনা না দেওয়ায় উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর অফিসকক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এ সময় রাহাত হাসান কাইয়ুমের সাথে ছাত্রদলকর্মী ফজলুও ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় কাইয়ুম ও ফজলুর বিরুদ্ধে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। রাহাত নকলা পৌরসভার ধুকুরিয়া গ্রামের সুরুজ মাওলার ছেলে এবং ফজলু একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে।
৫ নভেম্বর, বুধবার বিকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, ৫ নভেম্বর বিকাল আড়াইটার দিকে রাহাত ও ফজলু আমার অফিসে আসেন। কৃষি প্রণোদনার তালিকায় তাদের পছন্দমত ব্যক্তিদের নাম না থাকায় তারা বলেন, নেতাদের ভাগ কোথায়? আমাদের ভাগ দিতে হবে। আমি বলি রাজনৈতিক কারও ভাগ দেওয়ার সুযোগ নাই। এতেই তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শারিরীকভাবে
লাঞ্ছিত করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে আইনানুগ পক্রিয়া ও সমূহ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। অতি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব। দুর্বৃত্ত সবসময় দুর্বৃত্ত। সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দেওয়াটা অত্যন্ত গর্হিত একটা কাজ। এটা রাষ্ট্রের উপর আঘাত। যেকোনো দুর্বৃত্তকেই আইনের আওতায় এনে তাকে আইনের হাতকড়া পরাব এতে আমরা বদ্ধপরিকর।
মুগনিউর রহমান মনি : নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















