বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী শাহ্ মো ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতার ঘোষণা যিনি দিয়েছিলেন, যার নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। যার নেতৃত্বে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই জাতির বীর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানসহ সকল বীর শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। স্বাধীনতার মূল মন্ত্র গণতন্ত্র। স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি।
৭ই নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে জামালপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাপূর্বক জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপিনেতা শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু যারা জীবন দিয়ে এবং জীবন বাজি রেখে এই দেশ স্বাধীন করেছে তাদের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করে স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করেছিল। যে কারণে বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরে আজকের এই ৭ নভেম্বর জাতির ইতিহাসে ঐতিহাসিক একটি ঘটনা ঘটেছিল।
ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, জিয়াউর রহমানকে যারা ক্ষমতার মস্তক দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। যারা জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে রেখেছিল। এই দেশের মানুষের মুক্তির প্রয়োজনে সেই স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সাধারণ সিপাহি এবং জনতা সম্মিলিত ভাবে বিপ্লব ঘটিয়ে মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছিল। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বসার মধ্যে দিয়ে এই ৭ই নভেম্বরে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতার স্বপ্ন সাধ নিয়ে এই বাংলাদেশ স্বাধীনতার যাত্রা শুরু করেছিল।
তিনি বলেন, সেই গণতন্ত্র বিভিন্ন সময় বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা এই দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে আবার তার বাপের সম্পত্তির মতো নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ছিল। ১৭ বছর অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের নেতা তারেক রহমান সুদূর লন্ডনে বসে দিন রাত পরিশ্রম করে এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সফল বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে। যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আবার স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। গণতন্ত্রের মুক্তির পথে আমরা এগুচ্ছি।
শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, এই গণতন্ত্রের মুক্তির পথে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে জামালপুরের পাঁচটি আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এই পাঁচটি আসনে সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ জনগণের আশা আকাঙ্খা যাদেরকে নিয়ে ছিল, বিএনপির নেতা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের নাম ঘোষণা করেছেন। যার মধ্যে দিয়ে সর্বস্তরের জামালপুরবাসীর মধ্যে একটি আনন্দের জোয়ার বইছে। জামালপুরবাসী আশায় বুক পেতে আছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে পাঁচটি আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে মিছিলপূর্বক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু প্রমুখ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনা ও শোভাযাত্রায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
মো. আলমগীর : নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















