জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ জামালপুরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা কিসের জন্য বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিবেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারক এবং বাহক ছিলেন। তার শাসনামলের সাড়ে তিন বছরে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন তা। এজন্যই বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিবে। আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য ধানের শীষে ভোট দিবে। তারেক রহমানের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছে এ কারণেই বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটারদের মাঝে সঠিক পন্থায় দ্বারে দ্বারে গিয়ে যদি ৩১ দফা তুলে ধরতে পারি তাহলেই বিএনপির বিশাল বিজয় হবে।
৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ৭ নভেম্বর, শুক্রবার বিকালে জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জামালপুর জেলা শাখার ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ এসব কথা বলেন।
তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, জামালপুর জেলায় পাঁচটি আসন রয়েছে। আমাদের জামালপুর জেলা বিএনপি সুসংগঠিতভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবো। জামালপুর জেলা বিএনপি দু’দিন আগে ঐক্যের ডাক দিয়েছে। আমরাও আজকে ঐক্যের ডাক দিচ্ছি। এক সাথে আমরা কাজ করব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এই বিএনপি। বিএনপির প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ। ধানের শীষ যার হাতে থাকবে আমরা যারা জিয়াউর রহমানের সৈনিক একাকার হয়ে কাধে কাধ রেখে সেই প্রার্থীকে আমরা জয়ী করব ইনশাল্লাহ। আমরা জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনকেই আমাদের নেতা তারেক রহমানকে যেন উপহার দিতে পারি সেই লক্ষ্যেই সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে শামীম আহমেদ বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমান যদি দেশের দায়িত্ব হাতে না নিতেন। তাহলে ষড়যন্ত্রের যে বেড়াজাল তৈরি হয়েছিল. সেই বেড়াজাল থেকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ হত। হেয় প্রতিপন্ন হত। জিয়াউর রহমানের সঠিক নেতৃত্বের কারণে, সঠিক মনমানসিকতার কারণে, সঠিকভাবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কারণে শুধু দেশেই নয়, সারাবিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। জিয়াউর রহমান চীনসহ সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মানচিত্র তুলে ধরেছেন। সৌদি আরবের মাটিতে নিমগাছ রোপণ করেন তিনি। সেই নিম গাছ আজকে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি হিসাবে পরিচিত।
শামীম আহমেদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের সময় আপসহীন থেকে দলকে একত্র করে দেশে গণতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। এরপর আবার শেখ হাসিনার সরকার ভারতের এজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করার জন্য, দেশকে সিকিম রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য র’ এর এজেন্টদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি পরাধীনতার দেশে. একটি ভঙ্গুর পররাষ্ট্রনীতির দেশে, একটি অর্থনৈতিক মাজাভাঙ্গা দেশে, শিক্ষার মেরুদণ্ডহীন বাংলাদেশ কায়েম করেছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার।

জিয়া পরিবারের উপর নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তার ছেলে কোকোকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও জেলখানায় বন্দি করে রাখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার। মৌলিক অধিকার না দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্যাতিত হয়েছেন। তাকে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে রাখা হয়েছে জোর করে। তিনি বুকে কত কষ্ট নিয়ে। বুকে কত আঘাত নিয়ে লন্ডনের বসেই বাঙলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পেছন থেকে যত রসদ দেওয়া দরকার তিনি দিয়েছেন। দেশকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার কবল থেকে মুক্ত করেছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক, জেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণ চন্দ্র মন্ডল, বিএনপিনেতা এনাম উদ্দৌলাহ সিদ্দিকী, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজম খান, জামালপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. খাইরুল ইসলাম লিওন, যুবনেতা রানা ম্যানশন, মিজানুর রহমান তালুকদার, মো. সিরাজ, জিয়া সাইবার জামালপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. রিপন হোসেন হৃদয়সহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় জেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 


















