ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে ট্রাক্টরচাপায় মাদরাসাছাত্র এক শিশু নিহত সদিচ্ছা থাকলে কাজে সফলতা আসবেই : ডিসি মোহাম্মদ ইউসুপ আলী শ্বশুরবাড়ির লোকদের হয়রানির অভিযোগে পুলিশের এসআইয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সরিষাবাড়ীতে যুবদলের দোয়া মাহফিল খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে : মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল  ৬ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত দিবস বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মসজিদ-মাদরাসায় বিশেষ দোয়া শেরপুরে দু’দিনব্যাপী পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু রক্তের বন্ধন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন বেলটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত নিহত

জামালপুর জেলা কারাগারে ৬ কয়েদি নিহত

জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি আসামিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিলে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ছয়জন কারাবন্দি নিহত এবং জেলার, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার আবু ফাতাহ।

৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কারাগারের প্রধান গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার ফহিমের ছেলে আরমান, মাসুদের ছেলে শ্যামল, নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম ও রাহাত, ফজলে রাব্বি বাবু, রায়হান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলার আবু ফাতাহ, কারারক্ষী রুকুনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও সোহেল রানাসহ ১৯ জন আহত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দি আসামিরা গত কয়েকদিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেই বন্দি আসামিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে এবং অপর পক্ষকে মারধর করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ দায়িত্বরত কারারক্ষীদের হাত-পা বাঁধে এবং জিম্মি করে। পরে বিদ্রোহীরা প্রথম গেইট দিয়ে জেলার কক্ষে ঢুকে তাঁকে প্রধান গেইট খুলে দিতে বলেন। তখন তিনি গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্রোহীরা তাঁর উপর আক্রমণ এবং মারধর করে। পরে বন্দিদের একটি পক্ষ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় বিদ্রোহীরা জেলারের কক্ষ, হাসপাতাল ও বন্দিদের সাতটি সেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পরে পিরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে ও কারারক্ষীদের উপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়া হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন বন্দি নিহত হয়েছে এবং আমি, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে ট্রাক্টরচাপায় মাদরাসাছাত্র এক শিশু নিহত

জামালপুর জেলা কারাগারে ৬ কয়েদি নিহত

আপডেট সময় ০৫:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪
জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি আসামিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিলে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ছয়জন কারাবন্দি নিহত এবং জেলার, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার আবু ফাতাহ।

৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কারাগারের প্রধান গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার ফহিমের ছেলে আরমান, মাসুদের ছেলে শ্যামল, নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম ও রাহাত, ফজলে রাব্বি বাবু, রায়হান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলার আবু ফাতাহ, কারারক্ষী রুকুনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও সোহেল রানাসহ ১৯ জন আহত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দি আসামিরা গত কয়েকদিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেই বন্দি আসামিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে এবং অপর পক্ষকে মারধর করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ দায়িত্বরত কারারক্ষীদের হাত-পা বাঁধে এবং জিম্মি করে। পরে বিদ্রোহীরা প্রথম গেইট দিয়ে জেলার কক্ষে ঢুকে তাঁকে প্রধান গেইট খুলে দিতে বলেন। তখন তিনি গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্রোহীরা তাঁর উপর আক্রমণ এবং মারধর করে। পরে বন্দিদের একটি পক্ষ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় বিদ্রোহীরা জেলারের কক্ষ, হাসপাতাল ও বন্দিদের সাতটি সেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পরে পিরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে ও কারারক্ষীদের উপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়া হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন বন্দি নিহত হয়েছে এবং আমি, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়।