ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীর উপার্জনে চলা সংসারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর ক্ষমতা বেশি : শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী আমরা এ পর্যন্ত সংবিধান মেনেই এসেছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকলায় ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত নকলায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে আগুন নেভানোর মহড়া অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে উন্নয়ন সংঘ সিডস প্রকল্পের উদ্যোগে জামালপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ১০ মার্চ দেশে আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে সংবর্ধনা

নকলায় কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ দেখে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

নকলা উপজেলা কৃষি অফিসে বস্তায় আদার চাষ পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

নকলা উপজেলা কৃষি অফিসে বস্তায় আদার চাষ পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

শফিউল আলম লাভলু, নকলা প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ দেখে কৃষকদের মধ্যে আদা চাষে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। একদিকে যেমন শোভাবর্ধন গাছে পরিণত হয়েছে অন্যদিকে কৃষি অফিসে আগত কৃষকদের মধ্যে আদা চাষে উৎসাহ জাগিয়েছে। বস্তায় আদা চাষে কম খরচ ও লাভ বেশী হওয়ায় পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালীন মেহেদী।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় ১২৫টি বস্তায় আদা চাষ করেছিলেন সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ (বর্তমানে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা)। গাছগুলো বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে। নেই কোন রোগ বালাই ও আগাছা। সারিসারি বস্তা দেখতেও খুব বেশ লাগে। বস্তা, আদা, জৈব সার, রাসায়নিক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে ৩৫ টাকার মত। প্রতিটি বস্তা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কেজির মত আদা সংগ্রহ করা যাবে। তিনি বলেন, যাদের জায়গা জমি কম তারা বস্তায় আদা চাষ করে একদিকে যেমন পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারবে অন্যদিকে বাড়তিটুকু বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করতে পারবে। তাছাড়া অফিসে আগত কৃষকরাও আদা চাষে উৎসাহিত হবে।

নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাঙ্গণে বস্তায় আদা চাষ দেখে এবং কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে পাঠাকাটা ইউনিয়নের দুধেরচর ব্লকের কৃষক রফিকুল ইসলাম পারভেজ প্রায় ৩’শ বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। তার দেখাদেখি শামীম নামের আরেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ৫ হাজার বস্তা, কৃষক আব্দুল কাদের প্রায় ১’শ বস্তা ও সাংবাদিক শফিউল আলম লাভলু তার বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক চাহিদা মিটাতে ৩০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করবেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালীন মেহেদী বলেন, কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষের উদ্যোগটি নিয়েছিলেন সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ স্যার। কৃষি অফিসে আগত কৃষকরা এই সারিবদ্ধ বস্তায় আদা চাষ দেখে আদা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষক পরামর্শ নিয়ে গেছেন। অনেকেই আবার বাণিজ্যকভাবে বস্তায় আদা চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। স্বল্প জায়গা, অল্প খরচে ও পরিশ্রমে বস্তায় আদা চাষ করা যায়।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বস্তায় আদা চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। নকলা উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে সারিবদ্ধ বস্তায় আদা চাষ দেখে খুবই ভাল লাগছে। এভাবে প্রত্যেকটা সরকারি অফিসের খালি জায়গাসহ পতিত জমিতে যদি বস্তায় আদা চাষ করা হয় একদিকে যেমন নিজেদের চাহিদা মিটবে অন্যদিকে কৃষকদের মাঝেও বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহ বাড়বে। কৃষকদের আদা চাষের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বস্তায় আদা চাষের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীর উপার্জনে চলা সংসারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর ক্ষমতা বেশি : শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন

নকলায় কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ দেখে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

আপডেট সময় ০৮:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
নকলা উপজেলা কৃষি অফিসে বস্তায় আদার চাষ পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

শফিউল আলম লাভলু, নকলা প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ দেখে কৃষকদের মধ্যে আদা চাষে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। একদিকে যেমন শোভাবর্ধন গাছে পরিণত হয়েছে অন্যদিকে কৃষি অফিসে আগত কৃষকদের মধ্যে আদা চাষে উৎসাহ জাগিয়েছে। বস্তায় আদা চাষে কম খরচ ও লাভ বেশী হওয়ায় পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালীন মেহেদী।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় ১২৫টি বস্তায় আদা চাষ করেছিলেন সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ (বর্তমানে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা)। গাছগুলো বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে। নেই কোন রোগ বালাই ও আগাছা। সারিসারি বস্তা দেখতেও খুব বেশ লাগে। বস্তা, আদা, জৈব সার, রাসায়নিক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে ৩৫ টাকার মত। প্রতিটি বস্তা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কেজির মত আদা সংগ্রহ করা যাবে। তিনি বলেন, যাদের জায়গা জমি কম তারা বস্তায় আদা চাষ করে একদিকে যেমন পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারবে অন্যদিকে বাড়তিটুকু বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করতে পারবে। তাছাড়া অফিসে আগত কৃষকরাও আদা চাষে উৎসাহিত হবে।

নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাঙ্গণে বস্তায় আদা চাষ দেখে এবং কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে পাঠাকাটা ইউনিয়নের দুধেরচর ব্লকের কৃষক রফিকুল ইসলাম পারভেজ প্রায় ৩’শ বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। তার দেখাদেখি শামীম নামের আরেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ৫ হাজার বস্তা, কৃষক আব্দুল কাদের প্রায় ১’শ বস্তা ও সাংবাদিক শফিউল আলম লাভলু তার বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক চাহিদা মিটাতে ৩০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করবেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালীন মেহেদী বলেন, কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষের উদ্যোগটি নিয়েছিলেন সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ স্যার। কৃষি অফিসে আগত কৃষকরা এই সারিবদ্ধ বস্তায় আদা চাষ দেখে আদা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষক পরামর্শ নিয়ে গেছেন। অনেকেই আবার বাণিজ্যকভাবে বস্তায় আদা চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। স্বল্প জায়গা, অল্প খরচে ও পরিশ্রমে বস্তায় আদা চাষ করা যায়।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বস্তায় আদা চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। নকলা উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে সারিবদ্ধ বস্তায় আদা চাষ দেখে খুবই ভাল লাগছে। এভাবে প্রত্যেকটা সরকারি অফিসের খালি জায়গাসহ পতিত জমিতে যদি বস্তায় আদা চাষ করা হয় একদিকে যেমন নিজেদের চাহিদা মিটবে অন্যদিকে কৃষকদের মাঝেও বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহ বাড়বে। কৃষকদের আদা চাষের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বস্তায় আদা চাষের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।