ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে তারাকান্দিতে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, জাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে জরিমানা কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজায় ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দিয়ে নজরদারি করবে আনসার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : সাখাওয়াত হোসেন নকলায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত দুর্গাপূজা : অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে বস্ত্র উপহার দিলেন ছাত্রদলনেতা মাহমুদুল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেরপুরে বোরো মৌসুমের ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকট : বিপাকে লাখো কৃষক

একটি ক্ষেতে ধান কাটছেন শ্রমিকেরা। ছবি:বাংলারচিঠিডটকম

একটি ক্ষেতে ধান কাটছেন শ্রমিকেরা। ছবি:বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরে বোরো মৌসুমের ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে বিপাকে পড়েছেন জেলার পাঁচ উপজেলার লাখো কৃষক। ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান তারা মাঠেই ফেলে রেখেছেন। এদিকে শ্রমিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের ধান কাটার জন্য হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের সুবিধা দিয়েছে। ইচ্ছে করলে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

জেলা কৃষি ও খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার জেলার সদরসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার ৯২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আর ৩৩ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ।

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক জুলহাস মিয়া ও নবী হোসেন বলেন, চাল উদ্বৃৃত্ত এ জেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা। শ্রমিক সংকটের কারণে একেকজন শ্রমিক দৈনিক মজুরি নিচ্ছেন ১০০০-১২০০ টাকা। আর আকাশে মেঘ জমলে মুজুরি হয়ে যায় দ্বিগুণ। এভাবে শ্রমিকের মুজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লাখো কৃষক।

তারা আরো জানান, সরকারিভাবে ধান কাটার জন্য ছাড়কৃত মূল্যে হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অনেক গ্রামের কৃষকরা হারভেস্টার মেশিন এখনো চোখেই দেখেনি।

ধানকাটা শ্রমিক ইউনুস শেখ ও তবারক মিয়া বলেন, সব রকমের খাদ্য পণ্যের দাম বেশি। তাছাড়া বোরো ধান কাটার সময়ও অল্প দিনের। এরপর তাদের থাকতে হয় বেকার। এ কারণে তারা মুজুরি বেশি নিচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, একই সময়ে সকল কৃষকের ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ জন্য সরকার ভর্তুকিতে হারভেস্টার মেশিন দিচ্ছে। এতে করে কৃষকেরা সহজেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে।

ড. সুকল্প দাস আরো বলেন, শেরপুরে হারভেস্টার মেশিনের সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকে হলেও এখানে এনে ধান কাটার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা

শেরপুরে বোরো মৌসুমের ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকট : বিপাকে লাখো কৃষক

আপডেট সময় ০৯:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩
একটি ক্ষেতে ধান কাটছেন শ্রমিকেরা। ছবি:বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরে বোরো মৌসুমের ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে বিপাকে পড়েছেন জেলার পাঁচ উপজেলার লাখো কৃষক। ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান তারা মাঠেই ফেলে রেখেছেন। এদিকে শ্রমিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের ধান কাটার জন্য হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের সুবিধা দিয়েছে। ইচ্ছে করলে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

জেলা কৃষি ও খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার জেলার সদরসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার ৯২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আর ৩৩ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ।

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক জুলহাস মিয়া ও নবী হোসেন বলেন, চাল উদ্বৃৃত্ত এ জেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা। শ্রমিক সংকটের কারণে একেকজন শ্রমিক দৈনিক মজুরি নিচ্ছেন ১০০০-১২০০ টাকা। আর আকাশে মেঘ জমলে মুজুরি হয়ে যায় দ্বিগুণ। এভাবে শ্রমিকের মুজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লাখো কৃষক।

তারা আরো জানান, সরকারিভাবে ধান কাটার জন্য ছাড়কৃত মূল্যে হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অনেক গ্রামের কৃষকরা হারভেস্টার মেশিন এখনো চোখেই দেখেনি।

ধানকাটা শ্রমিক ইউনুস শেখ ও তবারক মিয়া বলেন, সব রকমের খাদ্য পণ্যের দাম বেশি। তাছাড়া বোরো ধান কাটার সময়ও অল্প দিনের। এরপর তাদের থাকতে হয় বেকার। এ কারণে তারা মুজুরি বেশি নিচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, একই সময়ে সকল কৃষকের ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ জন্য সরকার ভর্তুকিতে হারভেস্টার মেশিন দিচ্ছে। এতে করে কৃষকেরা সহজেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে।

ড. সুকল্প দাস আরো বলেন, শেরপুরে হারভেস্টার মেশিনের সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকে হলেও এখানে এনে ধান কাটার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।