অর্থপাচারকারী তারেক রহমানই এখন মির্জা ফখরুলের নেতা : সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : আলী আকবর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলার সেই মাস্টার মাইন্ড নেতৃত্ব দিয়েছিল হাওয়া ভবন থেকে। বিদেশে অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানের কত টাকা আছে কেউ জানে না। বিদেশের মাটিতে তার কতগুলো বিলাসবহুল বাড়ি ও মার্কেট আছে এর কোন হিসাব নেই। সুইচ ব্যাংক, সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় ধরা পড়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ঢাকায় এসে এফবিআই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। সেই মামলায় তারেকের সাত বছরের জেল হয়েছে। অর্থপাচারকারী তারেক রহমানই এখন মির্জা ফখরুলের নেতা।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২৮ নভেম্বর বিকেলে জামালপুর জিলা স্কুল মাঠে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণের সাড়ে চার বছর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরো বলেন, পলাশীর যড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে মীরজাফর খন্দকার মোস্তাকের প্রধান সেনাপতি জিয়াউর রহমানের বিশ্বাস ঘাতকতায় ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। সেদিন দশ বছরের শিশু শেখ রাসেলকেও তারা ছাড় দেয়নি। কারবালায়ও নারী-শিশু হত্যা হয়নি। অথচ ৭৫-এ সেদিন শিশু, নারী এমনকি অন্তঃসত্বা নারীকেও হত্যা করা হয়েছিল। ৭৫-এর পর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, জয়বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার আদর্শ সকল কিছুই নিষিদ্ধের মূল হোতা ছিলেন জিয়াউর রহমান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আবার ফেসবুকে ছড়ায় ডিসেম্বরের ১১ তারিখে নাকি তারেক জিয়া ইমাম খোমেনী স্টাইলে ঢাকায় এরারপোর্টে আসছে। ওই খুনিকে কেউ বিশ্বাস করে না। আজকে ওই নাম শুনলে দেশের মানুষ ভয় পায়। বড় লোকদের বাড়িতে বিদেশী জাতের কুকুর থাকে। ওই বাড়ির সামনে লেখা থাকে ‘কুকুর থেকে সাবধান’। বাংলাদেশের জণগণকে বলি তারেক রহমান থেকে সাবধান থাকুন।

হ্যামিলনের বংশীবাদকের কাহিনি টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল বলেন ১০ তারিখে নাকি বাঁশিতে ফু দিবেন। অভ্যূত্থান শুরু হয়ে যাবে। অভ্যূত্থানে এই সরকারের নাকি পতন হবে। আপনাদের মনে রাখা দরকার জার্মানীর হ্যামিলনের সেই বংশীবাদক একদিন শহরের সবশিশুদের বোকা বানিয়ে পাহাড়ে নিয়ে আটকে রেখেছিল। ফখরুল খালেদা জিয়ার হ্যামিলনের ডাকাতিয়া বাঁশি ফুঁ দিয়ে কি ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণকে নদীতে ডুবিয়ে রাখবেন। নাকি কোনো পাহাড়ে নিয়ে আটকে রাখবেন। এসব তাদের প্রতারণা। দেশের মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানাতে চায় তারা।

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খেলা হবে তৈরি আছেন তো? ১০ ডিসেম্বর খেলা হবে। আগামী নির্বাচনে খেলা হবে। আন্দোলনে খেলা হবে। বিএনপি মিটিং করুক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এটা আমরা চাই। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের সম্মেলন এগিয়ে ৬ তারিখে এনেছি। মারামারি, পাল্টাপাল্টি, কোন বাধা বিপত্তি নয়। আপনারা আগুন আর লাঠি নিয়ে আসলে খেলা হবে। আপনারা আগুন আর লাঠি নিয়ে খেলা করবেন আর আমাদের নেতারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ চুষবে এটা হবে না। রাজনীতির খেলার মাঠে আমরা প্রস্তুত আছি।

সম্মেলনের উদ্বোধক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাত কেটেছে, পা কেটেছে। ভাইয়ের সামনে তারা বোনকে ধর্ষণ করেছে। মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। নাবালক শিশু পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাদের অত্যাচার নির্যাতন ও নিষ্পেষণে সেদিন বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা আমাদের মহা অপরাধ ছিল। তারা আমাদের জেলে পুরেছে। যারা ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়, তারা আবার আমাদের গণতন্ত্র শেখায়। যারা এই দেশকে আবার হাওয়া ভবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তারা আমাদের গণতন্ত্র শেখায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের কোন বাধাই আটকে রাখতে পারবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আড়েং, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মো. মোজাফফর হোসেন এমপি, বেগম হোসনে আরা এমপি, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ। এর আগে সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পাঠ ও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী।

কমিটি গঠন : পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির শীর্ষ তিনটি পদে তিন নেতার নাম ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা দেন নতুন কমিটিতে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহকে সভাপতি, ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীকে সহ-সভাপতি ও বিজন কুমার চন্দকে সাধারণ সম্পাদক করা হলো।

sarkar furniture Ad
Green House Ad