কৃষকের ধান কাটতে কাস্তে হাতে মাঠে শেরপুরের পুলিশ সুপার

ধান কাটায় অংশ নেন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

কৃষকের দুরাবস্থা লাঘবে কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে শ্রমিক ও অর্থ সংকটে ভোগছেন জেলার পাঁচ উপজেলার লাখো কৃষক। তাই কৃষকদের কষ্ট লাঘবে বোরো ধান কেটে ও মাড়াই করে গোলায় তুলে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে ২৩ এপ্রিল দিনব্যাপী সদর উপজেলা বাজিতখিলার বালিয়া গ্রাম ও নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের বারমাইসা গ্রামে ধান কাটার কাজ শুরু করা হয়। এদিন পুলিশ সুপার নিজে স্থানীয় এক কৃষকের জমিতে নেমে ধান কেটে পুলিশের ধান কাটা উৎসব কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে কৃষকদের সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া কথা রাখলেন পুলিশ সুপার।

এর আগে ২০ এপ্রিল সকালে করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শেরপুর জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৮ জেলার সাথে অনুষ্ঠিত ওই কনফারেন্সে শেরপুরের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের সঞ্চালনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান ও পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম।

পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা কৃষকদের ধান কেটে দেয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ দিন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে আস্বস্ত করে বলেন, কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্য ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারে এবং ফসল ঘরে তুলতে পারে সেজন্য সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে যে সফল আবাদ হয়েছে তা যেনো ঘরে তোলা যায় সে জন্য কৃষকদেরকে সংগঠিত করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলার জন্য জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে। এই মুহূর্তে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ কৃষক যেন খাদ্য শষ্য ঘরে তোলতে পারে এবং লকডাউন নিশ্চিত করা।

জেলা পুলিশের এ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম।

পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধান কেটে দেওয়ায় খুশি সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের কৃষক সামেদুল হক। এদিন পুলিশ সদস্যরা তার ৪০ শতাংশ জমির ধান কেটে দেয়। সামেদুল বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে শ্রমিক ও অর্থ সংকটে ভোগছেন জেলার সদরসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার লাখো কৃষক। এবার আমার ধান আবাদে সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। হাতে তেমন টাকা ছিল না। এর ফলে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন সময় পুলিশ সদস্যরা পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা ধান কেটে দেওয়ায় তার কমপক্ষে ১৪ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়েব হাসান শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করে পুলিশের সাথে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করছি। কৃষকের ধান কাটতে পেরে আমরাও খুশী।

কৃষকদের ধান মাড়াই করেন পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা । ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

একইদিন বিকেলে নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের বারমাইসা গ্রামের কৃষক আবু রায়হানের ৬৫ শতক জমির পাকা ধান কাটা হয়। এতে অংশ নেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন শাহ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম হীরাসহ পুলিশ ও স্টুডেন্টস কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী।

পুলিশ সুপার বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারা দেশ এখন স্থবির। এই পরিস্থিতিতে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। আর জেলা লকডাউন থাকার কারণে শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষকই ধান কাটতে পারছেন না। তাই জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কৃষকের ধান কেটে দিবে। যখনই যে কৃষক ধান কাটা সমস্যায় পড়বেন, তা জেলা পুলিশকে জানালে তার ধান কেটে দেয়া হবে।

জেলায় এবার ৮৯ হাজার ৩৬৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এছাড়া ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব ।

Views 47 ফেসবুকে শেয়ার করুন!
sarkar furniture Ad
Green House Ad