ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে উঠানের গর্তের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর পবিত্র ঈদুল আজহা ১০ জিলহজ, ২৮ মে, বৃহস্পতিবার সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে নারী এমপিদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিড-ডে মিলে মায়েদের সম্পৃক্ততায় গার্ডিয়ান কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর জামালপুরে ভিক্ষুকের হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করার ছোট গল্পের সৃষ্টি মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার চায় : বীর প্রতীক হাকিম পর্যটন হবে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি : প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান জামালপুরে ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন, মেলা উদ্বোধন ১৯ মে ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

সরিষাবাড়ীতে হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করলো এক শিক্ষক

শিক্ষকের বেতের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী শিহাব। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

শিক্ষকের বেতের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী শিহাব। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মহাদান ইউনিয়নে এক হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র শিহাব (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষক বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ১৪ মার্চ সকালে উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের শ্যামেরপাড়া রহমানিয়া হাফিজিয়া কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবার ও এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।

আহত শিক্ষার্থী শিহাব বলে, আমি তিনবছর যাবৎ এই মাদরাসায় কোরআন শিক্ষা নিচ্ছি। আমার মাদরাসায় একজন নতুন শিক্ষক এসেছেন এক মাস ধরে। ১৪ মার্চ সকাল সাড়ে সাতটায় প্রতিদিনের মতো সবাই পড়তে বসেছি। জোনাইদ হুজুর আমাকে ডেকে ছবক শুনাতে বলেন। আমি বলেছি যে হুজুর আমার পড়া শেখা হয়নি দুপুরে ছবক শুনাবো। এটা বলার সাথে সাথে আমাকে কাঁচা বাঁশের বেত দিয়ে দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে হুজুর চলে যেতে বলেন। আমি কোরআন শরিফটি মাদরাসার তাকে রেখে বাইরে যাবার চেষ্টা করলে আবারো দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। পরে চিৎকার করে বাড়িতে গিয়ে বাবা ও চাচিদের জানাই।

শিক্ষার্থীর চাচি সুফিয়া বেগম বলেন, মা মরা ছেলেটিকে আমরা মানুষ করছি। কোরআনের হাফেজ বানাবো বলে ওই মাদরাসায় পড়তে দিয়েছি। এভাবে ছেলেদের মারধর করলে কিভাবে হাফেজ হবে। এই ঘটনার বিচার দাবি করি আমরা।

শিক্ষক জোনাইদ আহম্মেদ শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমরাও তো হুজুরদের কাছে পড়েছি এর চেয়েও বেশি মারতেন। কখনো তো অভিভাবকদের জানাতে পারি নাই। সবাইকে ছবক দিতে বলেছি কেউ পেরেছে কেউ পারেনি। যারা পায়নি তাদের সবাইকে তো শাসন করেছি। শিহাব কোরআন ধাক্কা দিয়ে তাকে রাখার কারণে ওকে শাসন একটু বেশি করেছি। তাতে ওর পরিবারের সবাই আমাকে জুতা দিয়ে মারতে এসেছে।

এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, ঘটনা আমি শুনেছি, ওইভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি।

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এলাকার মাতাব্বরগণ বসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে উঠানের গর্তের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

সরিষাবাড়ীতে হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করলো এক শিক্ষক

আপডেট সময় ০৮:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০১৯
শিক্ষকের বেতের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী শিহাব। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মহাদান ইউনিয়নে এক হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র শিহাব (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষক বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ১৪ মার্চ সকালে উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের শ্যামেরপাড়া রহমানিয়া হাফিজিয়া কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবার ও এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।

আহত শিক্ষার্থী শিহাব বলে, আমি তিনবছর যাবৎ এই মাদরাসায় কোরআন শিক্ষা নিচ্ছি। আমার মাদরাসায় একজন নতুন শিক্ষক এসেছেন এক মাস ধরে। ১৪ মার্চ সকাল সাড়ে সাতটায় প্রতিদিনের মতো সবাই পড়তে বসেছি। জোনাইদ হুজুর আমাকে ডেকে ছবক শুনাতে বলেন। আমি বলেছি যে হুজুর আমার পড়া শেখা হয়নি দুপুরে ছবক শুনাবো। এটা বলার সাথে সাথে আমাকে কাঁচা বাঁশের বেত দিয়ে দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে হুজুর চলে যেতে বলেন। আমি কোরআন শরিফটি মাদরাসার তাকে রেখে বাইরে যাবার চেষ্টা করলে আবারো দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। পরে চিৎকার করে বাড়িতে গিয়ে বাবা ও চাচিদের জানাই।

শিক্ষার্থীর চাচি সুফিয়া বেগম বলেন, মা মরা ছেলেটিকে আমরা মানুষ করছি। কোরআনের হাফেজ বানাবো বলে ওই মাদরাসায় পড়তে দিয়েছি। এভাবে ছেলেদের মারধর করলে কিভাবে হাফেজ হবে। এই ঘটনার বিচার দাবি করি আমরা।

শিক্ষক জোনাইদ আহম্মেদ শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমরাও তো হুজুরদের কাছে পড়েছি এর চেয়েও বেশি মারতেন। কখনো তো অভিভাবকদের জানাতে পারি নাই। সবাইকে ছবক দিতে বলেছি কেউ পেরেছে কেউ পারেনি। যারা পায়নি তাদের সবাইকে তো শাসন করেছি। শিহাব কোরআন ধাক্কা দিয়ে তাকে রাখার কারণে ওকে শাসন একটু বেশি করেছি। তাতে ওর পরিবারের সবাই আমাকে জুতা দিয়ে মারতে এসেছে।

এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, ঘটনা আমি শুনেছি, ওইভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি।

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এলাকার মাতাব্বরগণ বসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।