ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীর উপার্জনে চলা সংসারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর ক্ষমতা বেশি : শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী আমরা এ পর্যন্ত সংবিধান মেনেই এসেছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকলায় ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত নকলায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে আগুন নেভানোর মহড়া অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে উন্নয়ন সংঘ সিডস প্রকল্পের উদ্যোগে জামালপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ১০ মার্চ দেশে আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে সংবর্ধনা

বকশীগঞ্জে স্বাভাবিক জীবনে ১৩ ভিক্ষুক

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ছয়জন ভিক্ষুককে ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ছয়জন ভিক্ষুককে ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ‘নবীজীর শিক্ষা, করো নাকো ভিক্ষা’ স্লোগান নিয়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর ফলে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে তারা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৪ মার্চ দুপুরে তাদের পুনর্বাসন করা হয়।

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্নভাবে জরিপ করে ২৩৫ জন ভিক্ষুকের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ৩৩ জন ভিক্ষুক রয়েছে। ভিক্ষুকমুক্ত বকশীগঞ্জ উপজেলা গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ কয়েক মাস থেকে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতন, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্টজনদের আর্থিক সহযোগিতায় পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ পৌর এলাকার ১৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়। এরমধ্যে ছয়জনকে ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়ি, দু’জনকে সেলাই মেশিন, একজনকে পিঠা তৈরির উপকরণ ও ৫ হাজার টাকা, দু’জনকে সেলুনের কাজের জন্য ২০ হাজার করে টাকা, একজনকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

উপজেলা মিলনায়তনে ভিক্ষুক পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, উপজেলা টেকনিশিয়ান রাশেদুজ্জামান মিজু, স্থানীয় সাংবাদিকসহ ভিক্ষুক পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রেখা আক্তারকে পিঠা তৈরির উপকরণ ও ৫ হাজার টাকা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

পুনর্বাসন হওয়া রেখা আক্তার জানান, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় আসিনি। অভাব অনটন ও নানা কারণেই এ পেশায় এসেছিলাম। তিনি পুনর্বাসনের জন্য পিঠা তৈরির উপকরণ ও ৫ হাজার টাকা পাওয়ায় ভিক্ষা করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, জামালপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা পযায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পযায়ক্রমে সকল ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীর উপার্জনে চলা সংসারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর ক্ষমতা বেশি : শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন

বকশীগঞ্জে স্বাভাবিক জীবনে ১৩ ভিক্ষুক

আপডেট সময় ০৮:২০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০১৯
ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ছয়জন ভিক্ষুককে ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ‘নবীজীর শিক্ষা, করো নাকো ভিক্ষা’ স্লোগান নিয়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর ফলে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে তারা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৪ মার্চ দুপুরে তাদের পুনর্বাসন করা হয়।

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্নভাবে জরিপ করে ২৩৫ জন ভিক্ষুকের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ৩৩ জন ভিক্ষুক রয়েছে। ভিক্ষুকমুক্ত বকশীগঞ্জ উপজেলা গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ কয়েক মাস থেকে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতন, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্টজনদের আর্থিক সহযোগিতায় পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ পৌর এলাকার ১৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়। এরমধ্যে ছয়জনকে ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়ি, দু’জনকে সেলাই মেশিন, একজনকে পিঠা তৈরির উপকরণ ও ৫ হাজার টাকা, দু’জনকে সেলুনের কাজের জন্য ২০ হাজার করে টাকা, একজনকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

উপজেলা মিলনায়তনে ভিক্ষুক পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, উপজেলা টেকনিশিয়ান রাশেদুজ্জামান মিজু, স্থানীয় সাংবাদিকসহ ভিক্ষুক পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রেখা আক্তারকে পিঠা তৈরির উপকরণ ও ৫ হাজার টাকা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

পুনর্বাসন হওয়া রেখা আক্তার জানান, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় আসিনি। অভাব অনটন ও নানা কারণেই এ পেশায় এসেছিলাম। তিনি পুনর্বাসনের জন্য পিঠা তৈরির উপকরণ ও ৫ হাজার টাকা পাওয়ায় ভিক্ষা করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, জামালপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা পযায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পযায়ক্রমে সকল ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন।