হাজিপুরের মেহেদী হাসান তরুণ গুলিতে নিহত দক্ষিণ আফ্রিকায়

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত মেহেদী হাসান তরুণ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলারচিঠিডটকম

দক্ষিণ আফ্রিকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে মেহেদী হাসান তরুণ (৪৫) নামের জামালপুর জেলার এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সাথে থাকা তার দশ বছরের এক ছেলেও গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ব্যবসায়ী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তার পরিবারের স্বজনরা ধারণা করছেন।

২২ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পুপো ও পুমালাঙ্গা প্রদেশের সীমান্তে সিয়াবুসেয়াত এলাকায় স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের হাজিপুর দোয়ানিপাড়া গ্রামের আলহাজ মো. রেজাউল করিম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা হাসনা হেনা দম্পতির ছেলে। তার লাশ বাংলাদেশে আনা হবে বলে পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান তরুণ ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। দক্ষিণ আফ্রিকার পুমালাঙ্গা প্রদেশের সিয়াবুসেয়াত নামের গ্রাম এলাকায় তিনি স্থানীয় আফ্রিকান এক নারীকে বিয়ে করেন এবং সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার স্ত্রীর নাম রাখা হয় আছিয়া। পুমালাঙ্গা প্রদেশে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। তার ১০ বছরের এক ছেলে ও ৬ বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি তার একমাত্র ছেলেকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। এর আগের বছর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারা দুই ভাই। তার বড় ভাই মেহেদী মাসুদও দক্ষিণ আফ্রিকার একই এলাকায় বসবাস করেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে।

নিহত মেহেদী হাসানের মামা জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বাবু ২৩ নভেম্বর রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, ২২ নভেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পুপো ও পুমালাঙ্গা প্রদেশের সীমান্তে সিয়াবুসেয়াত এলাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত এবং দশ বছর বয়সী এক শিশু গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনা সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে জানাজানি হয়। বাংলাদেশী কমিউনিটির লোকজনদের মাধ্যমে তার আফ্রিকান নাগরিক স্ত্রী আছিয়া এবং তার বড় ভাই মেহেদী মাসুদ শনাক্ত করেন। তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলেও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকায় বসবাসরত মেহেদী হাসানের চাচা ফাররুখ আহমেদ ২৩ নভেম্বর রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, মেহেদী হাসান স্থানীয় পেপ স্টোর থেকে ছেলেমেয়েদের জন্য কাপড় কিনে বের হয়ে নিজ গাড়িতে উঠার সময় কয়েকজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। মেহেদী হাসান ওই এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতা হিসেবে খুব পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পুলিশ মেহেদী হাসানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় হিমাগারে রেখেছে। তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মেহেদী হাসানের লাশ বাংলাদেশে আনার সম্মতি দিয়েছে। তার লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। লাশের সাথে তার স্ত্রী-সন্তানরাও আসবে। ব্যবসায়ী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Views 34 ফেসবুকে শেয়ার করুন!
sarkar furniture Ad
Green House Ad