ফজিলাতুন্নেছা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন

ঢাকায় শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

এস এম আল ফাহাদ
ঢাকা থেকে

জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজ্ঞাপন জারির চার মাসেও উপাচার্য যোগদান না করায় উপাচার্য সংকট নিরসনের দাবিতে দিনব্যাপী সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ও দুপর দুটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে সচিবালয়ে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম। অপরদিকে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাজহারুল ইসলাম, জাহিদ হাসান অনিক, ফকির আহসানুল ইরফান, স্বাধীন সরকার প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জাহিদ হাসান অনিকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে ২০০০ সালে জামালপুর জেলার মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের একমাত্র ‘বিএসসি ফিশারিজ অনার্স’ ডিগ্রি প্রদানকারী কলেজ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০০৬ সালে বিরোধী দলের নেত্রী থাকা অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই কলেজ মাঠে এক জনসভায় মায়ের নামের এই কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার জন্য বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে কলেজটিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করে দেশের ৩৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৭ পাস হয়। উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ২১ জুন চার বছরের জন্য প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিরঞ্জন কুমার সানা।

প্রথম উপাচার্য ড. নিরঞ্জন কুমার সানা দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়ে যোগদান করেন নি। এতে বিপাকে পড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কারণ তারা উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পর্যাপ্ত ক্লাস করতে না পারায় জুনের সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করে। এরপর নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয় সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক, প্রশাসনিক ও হলসহ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও থমকে আছে। চলতি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলেজ নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূঁয়াশা। উপাচার্য না থাকলেও উপাচার্যের নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হতে ঠিকই চিঠিপত্র আসে বলে জানা গেছে।

Views 26 ফেসবুকে শেয়ার করুন!
sarkar furniture Ad
Green House Ad