ইসলামপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে হাইজিন কিট বিতরণ

উন্নয়ন সংঘের ফ্লাড রেসপন্স প্রকল্পের আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র মাদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
উন্নয়ন সংঘের ফ্লাড রেসপন্স প্রকল্পের আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র মাদের মাঝে হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
বন্যা বাড়ি, ঘরসহ অন্যান্য সম্পদের মতো স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও নানামুখী ক্ষতি সাধন করে থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতি, প্রসূতি এবং দুগ্ধানকারী মায়েরা নানা জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এর অন্যতম কারণ এই সময়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার না করার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার অভাব। এ ছাড়া ঋতুকালিন অসচেতনতাও স্বাস্থ্যহানীর কারণ হয়ে উঠে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং আসন্ন বন্যায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নয়ন সংঘের বাংলাদেশ ফ্লাড রেসপন্স প্রকল্পের আওতায় ১২ জুন ইসলামপুরে মাদের মাঝে স্বাস্থ্য বিষয়ক ধারণা এবং হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়। বিতরণ কাজ উদ্বোধন করেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম।

সংস্থার ইসলামপুর গুঠাইল বাজার সংলগ্ন প্রকল্প কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হাইজিন কিট বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন এর প্রতিনিধি মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, উন্নয়ন সংঘের হেলাল উদ্দিন, শাহজাহান মিয়া, সাব্বির হোসেন রিয়াদ, আব্দুল আউয়াল, খোরশেদ আলম, রেহেনা আক্তার প্রমুখ।

এডিএইচ জার্মানীর অর্থসহায়তায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সাথে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত বাংলাদেশ ফ্লাড রেসপন্স প্রকল্পের আওতায় এইদিন ২০০ নারীকে হাইজিন কিট প্রদান করা হয়। হাইজিন কিটের মধ্যে ছিল মধ্যে ১০টি সাবান, তিনটি দাঁত মাজা পেস্ট, টুথব্রাশ, নেইল কাটার, গামছা, সেন্ডেল, প্যান্টি, চিরুনি, ব্লেড, বড় বালতি, একটি বড় ব্যাগ। বিতরণের পূর্বে প্রকল্পের কর্মীরা হাইজিন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।

এর আগে সকালে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক এ কে এম শহিদুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

সূত্র জানায়, গত বন্যায় অধিক ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কৃষি, পুষ্টি সহায়তা, ছাগল, হাঁস, মুরগী, ঢেউটিন, গৃহস্থালী সামগ্রী বিতরণ এবং রাস্তাঘাট সংস্কার, সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সরাসরি ২ হাজার পরিবার এবং পরোক্ষভাবে ১০ হাজার পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। প্রকল্পটি জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হবে।