জামালপুরে উত্তরা ব্যাংকে কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
উত্তরা ব্যাংকের জামালপুর শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় একজন গ্রাহকের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। ১৭ মে বেলা দু’টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আইনি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তরা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকার জুতা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন অনলাইনে টাকা পাঠানোর জন্য বেলা দু’টার দিকে শহরের শহীদ হারুন সড়ক মোড়ে উত্তরা ব্যাংকে যান। তিনি ওই ব্যাংকের নিয়মিত কোনো গ্রাহক নন। তিনি অনলাইনে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোস্তফা কামালের টেবিলে যান। ওই কর্মকর্তা তাকে ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক নন, এমন যে কেউ অনলাইনে টাকা পাঠাতে হলেও ভোটার পরিচয়পত্রসহ আরও কিছু তথ্য পূরণ করার নিয়মের কথা জানান। এতে আনোয়ার হোসেন রাজি না হলে টাকা পাঠানো যাবে না বলে জানিয়ে দেন ওই কর্মকর্তা।

এ সময় আনোয়ার হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে প্রথমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের এক পর্যায়ে তাকে মারধর শুরু করেন। এ অবস্থা দেখে ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তা প্রহরীরা তাকে উদ্ধার এবং আক্রমণকারী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে আটক করেন। সাথে সাথে ব্যাংক থেকে ফোনে সদর থানায় জানানো হলে দ্রুত পুলিশ ব্যাংকে অবস্থান নেয়।

এ দিকে উত্তরা ব্যাংকের ভেতরে কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হওয়ার কথা জানাজানি হলে ব্যাংকের বাইরে বিপুল সংখ্যক লোক ভিড় করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দি জামালপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রেজনু বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়ে ব্যাংকে ছুটে যান। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ঘটনা জানতে পেরে আক্রমণকারী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের অপরাধের সত্যতা পান। এ সময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে অনুরোধ জানান। ব্যবস্থাপকের কক্ষে প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে বৈঠক শেষে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আনোয়ার হোসেনকে ব্যাংক থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। একই সাথে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সদর থানা পুলিশও ব্যাংক ত্যাগ করে।

ব্যাংকের ভেতরে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হাসান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় লাঞ্ছিত হওয়া কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ও তার সহকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের ভেতরের এ ঘটনাটি তারা কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছেন না।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এ প্রতিবেদককে বলেন, কয়েক মাস আগেও অন্য এক ব্যক্তি ব্যাংকের ভেতরে একজন কর্মকর্তাকে মারধর করেছিল। কোনো বিচার হয়নি। আজকে আমার সাথে যে আচরণ করেছে তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এ রকম হলে এখানে চাকরিই করা মুশকিল হবে।

জামালপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রেজনু এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুল বুঝতে পেরে একজন লোক ক্ষমা চাইলে এরপর আর কোনো সমস্যা থাকে না।

আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ওই লোকটা ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছে। তাই সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

আরও পড়তে পারেন :
» প্রকাশ হলো জীবন ফারুকীর ইসলামিক গান ‘ইয়া রাহমানুর রাহিম’
» জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ২
» শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস : যেদিন উঠেছিল নতুন সূর্য
» জামালপুরে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসে ইন্টারনেটে ন্যুড অপশন বন্ধের দাবি
» ‘এটা কি ইসলামপুর পৌরসভার রাস্তা?’