জামালপুরে উদ্ধার হওয়া ফারুক মায়ের কোলে, জেসমিন আশ্রয়কেন্দ্রে

জামালপুরে উদ্ধার হওয়া শিশু ফারুককে তার নানা ও নানীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
জামালপুরে উদ্ধার হওয়া শিশু ফারুককে তার নানা ও নানীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
সম্প্রতি জামালপুরে উদ্ধার হওয়া শিশু ফারুককে (৯) মায়ের কোলে এবং বাকপ্রতিবন্ধী জেসমিনকে (২০) পাঠানো হয়েছে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে। ১৫ মে জামালপুর সদর থানার মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে সরকারি বিধি অনুস্মরণ করে সংশ্লিষ্ট স্থানে তাদের পাঠানো হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১১ মে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় কান্নারত অবস্থায় শিশুটিকে দেখে এলাকাবাসী ও মানবাধিকারকমী উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম থানায় নিয়ে আসেন।

উন্নয়ন সংঘের আইআইআরসিসিএল প্রকল্পের সমাজকর্মী আরজু মিয়া জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন জামালপুর কাছারিপাড়া শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করেন। জিডির তথ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম এর সন্তান শিশু ফারুকের বাড়ি। তার বাবা নিরুদ্দেশ হবার পর মা রেহেনা আক্তার ও নানা-নানীর কাছেই বসবাস করছে সে। শিশুটি শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী। শিশুটি ঠিকানা ভুলে জামালপুরে চলে আসে।

গত তিনদিন জাহাঙ্গীর সেলিমের অবিরাম চেষ্টার পর ১৪ মে শিশুটির অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়। অবশেষে ফারুকের নানা নানী জামালপুর আসলে জামালপুর সদর থানায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম, শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা জ্যোৎস্না বেগম, উন্নয়ন সংঘের জাহাঙ্গীর সেলিম, আরজু মিয়া শেখ রাসেল প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের আরমান প্রমুখ। ১৫ মে ভোরে শিশুটিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিশটি মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ায় অন্যান্যের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জামালপুর সদর থানা, কসবা থানা, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সাংবাদিক জিহাদুল হক, জামালপুরের সাংবাদিক ছানাউল্লাহ, কসবা উপজেলা ছাত্রলীগনেতা দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকেই। শিশুটির অভিভাবক ও উন্নয়ন সংঘের আইআইআরসিসিএল প্রকল্পের পক্ষ থেকে এই মহৎ কাজে সহায়তা করার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জামালপুর সদর থানায় বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে জেসমিনসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মী। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
জামালপুর সদর থানায় বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে জেসমিনসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মী। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

অপরদিকে ১৪ মে সকালে জামালপুর বাইপাস জয়বাংলা মোড় থেকে বাকপ্রতিবন্ধী জেসমিন নামে এক মেয়ে উদ্ধার করা হয়। জামালপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহবুব আনাম বাবলা, সাংবাদিক আলী আজাদ ও হিমেল বাসের ব্যবস্থাপক দোলনের সংবাদের ভিত্তিতে মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, প্রবেশন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান এবং সদর থানার যৌথ উদ্যোগে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মেয়েটিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ হাকিম বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েটির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গাজীপুর জেলার পুবাইল সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেন।

মেয়েটির সন্ধান পাওয়ার পর খবর পেয়ে জামলপুর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নির্দেশনায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং সদর থানা পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়। অবশেষে প্রক্রিয়া শেষে মেয়েটিকে ১৫ মে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পুবাইল সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আবু ইলিয়াস মল্লিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ১৫ মে বেলা পৌনে দুটায় বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েটিকে তারা গ্রহণ করেছেন।

বাংলারচিঠি ডটকমে আরও পড়ুন :
দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ না করার শপথ নিল ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী
সরিষাবাড়ীতে ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলহাজ জুট মিলের সিবিএ নির্বাচন