সেনা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক হুমকি মোকাবেলায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সতর্ক থেকে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক হুমকি মোকাবেলার জন্য আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বৈদেশিক বাহ্যিক যে কোন হুমকি মোকাবেলায় সদা সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩ মে সকালে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে একথা বলেন। ঢাকা সেনানিবাস থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা সেনানিবাসে ক্যান্সার সেন্টার, ফার্টিলিটি সেন্টার, এডিবল ওয়েল মিল এবং বিভিন্ন সেনানিবাসে সেনা সদস্যদের জন্য ব্যারাক, সেনা ছাউনি, প্রশিক্ষণ এবং আবাসন প্রকল্পসমূহ।

সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘দেশের সম্পদ’ এবং মানুষের ‘ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই পেশাদারিত্বের কাক্সিক্ষত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং কল্যাণময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা উর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের কর্তব্য সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি’। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সেনা সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

তাঁর সরকার সর্বদাই জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, শাসক হিসেবে নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সেবা করার জন্য আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।

তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনাকালীন যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগপূর্ণ কন্ঠে বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, তাঁর দুই ভাই শহীদ শেখ কামাল এবং শহীদ শেখ জামাল সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন।

বাস্পরুদ্ধ কন্ঠে তিনি বলেন, ‘তাঁর ছোট ভাই শেখ রাসেল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিল। কাজেই পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী করে সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলাকে আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলেই মনে করি।’

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছিলেন।

তাঁর নির্দেশেই ১৯৭২ সালে কুমিল্লায় গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি। এছাড়াও তিনি কম্বাইন্ড আর্মস স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা কর্তৃক প্রদত্ত সুদূরপ্রসারী এই প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর ফলেই আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, দেশ ও দেশের বাইরে এক সম্মানজনক অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। এ বাহিনীর দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম আপনাদের রক্ষা করতে হবে, যার স্বপ্ন ও দিক নির্দেশনা জাতির পিতা দিয়েছিলেন।

তাঁর সরকার সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা প্রয়োজনীয় সকল কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।’

একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীতে নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং কিছুসংখ্যক ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নকে প্যারা ব্যাটালিয়ন এবং মেকানাইজড ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্যারা কমাণ্ডো ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে। দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও সুসংহত করতে সংযোজিত হয়েছে এমএলআরএস এবং মিসাইল রেজিমেন্ট।

তিনি বলেন, আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, হেলিকপ্টার, আর্টিলারী গান এবং মর্ডান ইনফ্যান্ট্রি গেজেট ইত্যাদি সংযোজন করে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।

বর্তমান সরকারের সময়কালে ২০১৩ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী সৈনিক ভর্তির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে নারী প্রশিক্ষণার্থীগণ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সেন্টার ও স্কুলে যোগদান করেন।

তিনি বলেন,বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত মহিলা পাইলট সংযোজন একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি সেনাবাহিনীর ছোট বড় ২৭টি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করলাম। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ক্যান্সার সেন্টার ও ফার্টিলিটি সেন্টার, ভোজ্য তেল কল, সেনাসদস্যদের আবাসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের আবাসন এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা স্থাপনা।

তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই প্রকল্পসমূহ সেনাবাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ সুবিধাদির উন্নয়ন এবং আবাসন সমস্যা দূরীকরণসহ সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা ও উন্নতিকল্পে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশেষ করে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকায় তিনি গর্বিত।

সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে “অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ ও “অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর মাধ্যমে জঙ্গি বিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং গুলশানের হলি অর্টিজান বেকারীতে জিম্মী নাটকের অবসানে সেনাবাহিনী যোগ্যতার যে স্বাক্ষর রেখেছে তা দেখে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী অপারেশন উত্তরণ-এর আওতায় সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের জুন মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে সমগ্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দ্রুত পুনরুদ্ধার অভিযান ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে জনগণের সেবায় আপনারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় রাঙ্গামাটিতে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন দুইজন সেনা কর্মকর্তাসহ পাঁচজন সহকর্মীকে হারানোর দুঃখজনক ঘটনায় শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

সেনাবাহিনী তার মূল কার্যক্রমের পাশাপাশি সবসময়ই জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত করেছে একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের পেশাগত দক্ষতার কারণে দীর্ঘ প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ তদারকিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যেমন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্প, হাতিরঝিল সমম্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ, মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং থানচী-আলীকদম সড়ক নির্মাণ দায়িত্ব আপনাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা। যা বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,সেনাবাহিনী মায়ানমার হতে আগত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি তাদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা ও চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতায় দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনা সদস্যদের কল্যাণে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন সিএমএইচ-এর জনবলসহ সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিস্ট্রেশন (আইবিএ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু,আর্মি ইনফরমেশন টেকনোলজি সাপোর্ট অর্গানাইজেশন (এআইটিএসও) প্রতিষ্ঠাসহ অনেক আধুনিক যোগাযোগ সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে এবং একই সাথে সেনাবাহিনীর কল্যাণমুখী কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাস্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেনা আবাসন প্রকল্প, উন্নত মানের রসদ সরবরাহ এবং বহুতল সরকারি পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের রেশন, স্কেল ও বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

‘৯৬ পরবর্তি সরকার পরিচালনার সময় একদিন সেনা সদস্যদের দরবারে এসে দুপুরে সেনা সদস্যদের ভাতের পরিবর্তে রুটি দেওয়ার কথা জানতে পেরে এবং সেদিন দরবারে উপস্থিত সেনা সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে ’৯৮ সালে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর তিনি দুপুরে সেনা সদস্যদের পাকিস্তান আমলে চালু হওয়া রুটির পরিবর্তে ভাতের ব্যবস্থা করেন এবং যতদিন এটি করতে না পেরেছেন ততদিন তিনি নিজেও দুপুরে ভাত খাননি বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য দুপুরে রুটির পরিবর্তে ভাতের ব্যবস্থা করেছি। যতদিন সেটা করতে পারিনি ততদিন আমিও দুপুরে ভাত খাইনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদস্যদের দুস্থ ভাতা দুই লক্ষ টাকার পরিবর্তে ছয় লক্ষ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার, জেসিও এবং ওআর গণের ছুটি নগদায়নের অর্থ প্রদান সরকার কর্তৃক ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসে উন্নীত করা হয়েছে এবং জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর পেনশনযোগ্য চাকরিকাল সরকার কর্তৃক ১৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জেসিও পদকে ২য় শ্রেণি হতে ১ম শ্রেণি (নন ক্যাডার) এবং সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণি হতে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। এলপিআর এর সময়সীমা ৬ মাসের পরিবর্তে ১ বছরে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেসিও এবং ওআরদের জন্য ক্ষতিপূরণ অনুদান বাবদ মৃত্যুবরণ এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের ১৫ হাজার ৫৬২ টাকার পরিবর্তে ৫ লক্ষ এবং ৮ হাজার ২৮১ টাকার পরিবর্তে ২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর কমান্ডো সদস্য, এভিয়েশন ইউনিটের বৈমানিকগণকে উড্ডয়ন ঝুঁকি বীমার আওতায় আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছি। এর আগে আমরা সমুদ্রসীমা জয় করেছি। সীমান্তে বিরোধ নিস্পত্তি করে আমরা ছিট মহল সমস্যার সমাধান করেছি।

তিনি বলেন, ‘জলে, স্থলে ও আকাশ সীমায় আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হয়েছে।’বাসস।