ক্লাস বন্ধ রেখে এনজিও’র অনুষ্ঠান !

নকলায় ক্লাস বন্ধ রেখে এসডিএফ এর ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠান। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
নকলায় ক্লাস বন্ধ রেখে এসডিএফ এর ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠান। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

সুজন সেন, শেরপুর ॥
শেরপুরের নকলা উপজেলায় বানেশ্বর্দী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ছুটি দিয়ে বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম সমিতিতে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর অর্থায়নে ৮ মে সকালে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কক্ষকে মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহার করে ওই অনুষ্ঠান করা হয়। এ ঘটনায় ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অনেক অতিথি অনুষ্ঠান বয়কট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র জানায়, ৮ মে প্রথম পিরিয়ডে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে এবং অষ্টম ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে একসাথে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের হাজিরা নেন শ্রেণি শিক্ষকেরা। পরে এভাবেই এলোমেলো করে তৃতীয় পিরিয়ড পর্যন্ত ক্লাস চালিয়ে শব্দ ও হট্টগোলের কারণে বেলা সাড়ে বারোটায় মাদরাসা ছুটি দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের দাবি, ওই মাদরাসার সুপার উপজেলা আওয়ামী লীগনেতা শহীদুল ইসলাম, সভাপতি কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর ননদ প্রফেসর তাসলিমা খাতুন এবং পরিচালনা পরিষদের অন্য এক সদস্য স্থানীয় চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় ভয়ে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি শিক্ষানুরাগী খন্দকার শহীদুল ইসলাম গোড়া মিয়া ও সামছুল আরেফিনসহ আরও অনেকেই বলেন, ক্লাস বন্ধ রেখে অনুষ্ঠান বিষয়টি আমাদের কাছে খুব খারাপ লেগেছে। তাই অনুষ্ঠান আমরা বয়কট করেছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দোহাই দিয়ে মাদরাসা অনিয়মে ভরে গেছে। মাদরাসা ছুটি দিয়ে বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম সমিতিতে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। শুধু তাই না এই মাদরাসার এমপিও ভুক্ত এক শিক্ষক (ইংরেজী বিষয়ের) একই সাথে দুটো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বানেশ্বর্দী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ছাড়াও ওই শিক্ষক চন্দ্রকোনো কলেজে শিক্ষকতা করছেন। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূত। ওই শিক্ষক আসেন সকাল ১১টার পরে, চলেও যান সবার আগে। এই বিষেয়ে নাকি সভাপতি ও কমিটির অন্যান্য সদস্যদের অনুমতি নেওয়া আছে। তাছাড়া সুপার কখন মাদরাসায় আসেন আর কখন চলে যান তা কেউই জানেন না।

চতুর্থ ঘন্টার পরে মাদরাসা ছুটি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে একাডেমিক প্রধান সহ-সুপার আখতারুজ্জামান বলেন, মিলনায়তনে অনুষ্ঠান চলাকালিন সময়ে আমরা অন্যত্র শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়েছি।

মাদরাসার সুপার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা যথা নিয়মেই চলেছে। আমাদের মাত্র দুটো ক্লাস রুমে ২৮ জন মানুষ মিটিং করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ দেখিনা।

আমরা শুধু সপ্তম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণির দুটো ক্লাস পোস্টপন্ড করেছি। তারপরও সকালে দুটো ক্লাস হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বাকি ক্লাসগুলো সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর তাসলিমা খাতুন।

ক্লাস বন্ধ রেখে এনজিওর অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানা নাই এমনটা জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, মাদরাসার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও আমরা কোনো দিনই অনুমতি দিতাম না।

অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম মাহবুবুল আলম সোহাগ, নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান, এসডিএফ-এর ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক এম আই এম জুলফিকার, জেলা ব্যবস্থাপক হাছান নেওয়াজ মামুন, উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সোহেল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাফিজুল হকসহ বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী, ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম সমিতির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবি ও নানা বয়সের স্থানীয় নারী-পুরুষরা উপস্থিত ছিলেন।