জামালপুরে গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে সাংস্কৃতিক কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে বির্তকিত দু’জনকে গুণীজন সম্মাননা দেওয়ায় শিল্পকলা গুণীজন সম্মাননা-২০১৭ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলপাড় চলছে। ৫ মে রাতে জামালপুর শিল্পকলা একডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মাননা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে জেলার অধিকাংশ শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাস্কৃতিক কর্মীরা।

কন্ঠ সংগীতে অজন্তা রহমান, নাট্যকলায় আবুল মুনসুর খান দুলাল, নৃত্যকলায় হাবিবুর রহমান জাহাঙ্গীর, যন্ত্র সংগীতে ফজলুল করিম ও আবৃত্তিতে তরিকুল ফেরদৌসকে সন্মাননা দেওয়া হয়। আবৃত্তিতে তরিকুল ফেরদৌস ও নাট্যকলায় আবুল মনসুর খান দুলালকে গুণীজন সম্মাননা দেওয়া নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলপাড় শুরু হয়। সিংহভাগ সাস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানের যোগ দেওয়া প্রধান অতিথি পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ও আয়োজকেরা।

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, সাংস্কৃতিক দৈন্যে আজ গুণীজন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। গুণীদের কদর করতে না পারি, যেনতেনভাবে কাউকে ধরে বেঁধে সম্মান দিতে গেলে সম্মান প্রদায়ক অনুষ্ঠান হয় বটে, তাতে সাংস্কৃতির উপকার হয়না। বরং যারা দেন আর যারা নেন তাঁরা উভয়েই অসম্মানের অধিকারী হন। গুণীর একটা স্ট্যান্ডার্ড মান থাকাও উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

লেখক ও মানবাধিকার কর্মী জাহ্ঙ্গাীর সেলিম মন্তব্য করেন, বিচারকদের আরও বিবেচনাপ্রসূত হওয়া বাঞ্চনীয়। নইলে সম্মাননা নিয়ে মানুষের অশ্রদ্ধা বাড়বে।

টিআইবি সদস্য শিক্ষক সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, আবৃত্তি ও উপস্থাপনা এক প্রকার শিল্প। আবৃত্তিতে যোগ্য, প্রাজ্ঞ ও যাদের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের হাতে আবৃত্তিতে গুণীজন নির্বাচনে বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিল্পকলার নাট্য ও সাস্কৃতিক কর্মীরা বলেন, দেবজ্যোতি সেন শর্মাসহ অনেক গুণী আবৃত্তিকার থাকা সত্ত্বেও কালচারাল কর্মকর্তা খাতিরে লোক হওয়ায় তরিকুল ফেরদৌসকে সম্মাননা পাইয়ে দিয়েছে। নাট্যকলাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। সম্মাননা বাছাইয়ে অর্থ ও তদবিরের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ব্যাপারে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার একক সিদ্ধান্তে গুণীজন সম্মাননা বাছাই হয়নি। গুণীজন সম্মাননা বাছাইয়ে কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির সিদ্ধান্তে সব হয়েছে।