শেরপুরে বন বিভাগের বিরুদ্ধে বেতবাগান ধ্বংসের অভিযোগ

ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিটের আওতায় নকসী এলাকায় শাল বাগানের ভিতরে সৃজনকৃত বেত বাগান বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ছবি : সুজন সেন
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিটের আওতায় নকসী এলাকায় শাল বাগানের ভিতরে সৃজনকৃত বেত বাগান বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ছবি : সুজন সেন

সুজন সেন, শেরপুর ॥
বাজারে বেতের সোফা, চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রের বেশ কদর রয়েছে। এসব পণ্য কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের কাঁচামালের যোগান দিতে এবং বুনোহাতির আক্রমণ থেকে পাহাড়বাসীদের রক্ষা করতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে শাল বনের ভিতরে বেতের বাগান সৃজন করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ বন বিভাগের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেত বাগান বিলীন হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে তা রক্ষায় সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে।

রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বাঁশ, বেত ও মুর্তা বাগান সৃজন প্রকল্পের আওতায় ২০০০-২০১৪ অর্থ বছরে উপজেলার রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকুচা বিটের ৪৮৯ বিঘা জমিতে বেত বাগান সৃজন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবে অনেক জায়গায় বিপুল পরিমাণ বেত গাছ কেটে নিয়ে গেছে অজ্ঞাতরা। আবার কোনো কোনো জায়গায় বেত গাছ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অযত্ম আর অবহেলার পরও যে বেত গাছগুলো টিকে আছে সেগুলোও এখন ধ্বংসের পথে।

তাওয়াকুচা এলাকার রহমান শেখ, সালাহউদ্দিন, কবির ও আরিফসহ অনেকেই বলেন, গারো পাহাড়ে বন বিভাগের বেতবাগান সৃজন কর্মসূচি ভেস্তে যেতে বসেছে। মাঝেমধ্যেই বেতবাগান সৃজন করা হচ্ছে। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখছে না। বাগান সৃজনের সাইনবোর্ড আছে কিন্তু বাগান নেই। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের বেতবাগান সৃজন কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তারা আরও বলেন, বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম, অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে তা আলোর মুখ দেখছে না। এ ছাড়া বন বিভাগের রোপিত বেতগাছ রোপণের কয়েক মাসের মাথায় অজানা কারণে আগুনে পুড়ে বাগান নষ্ট হয়ে যায়।

Sherpur- Bet Gach PIC-1

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গজনী গ্রামের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ২০০০ সাল থেকে রাংটিয়া ফরেস্ট রেঞ্জের আওতায় বন বিভাগ বেতবাগান সৃজন কর্মসূচি হাতে নেয়। কিন্তু কাগজে-কলমে বাগান থাকলেও বাস্তবে তা নেই। বাগান সৃজনের নামে সরকারি লাখ লাখ টাকা তছরুপ করা হয়েছে। আর লোক দেখানোর নামে যে পরিমাণে বাগান সৃজন করা হয় তাও আবার বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ওই স্থানে পুনরায় বাগান সৃজনের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ আনা হয়। এভাবেই সরকারি অর্থ বরাদ্দ এনে বাগান সৃজনের নামে করা হচ্ছে হরিলুট। ফলে সরকারের বেতবাগান সৃজন কর্মসূচি ভেস্তে যেতে বসেছে।

শুষ্ক মৌসুমে মানুষের দেওয়া আগুনে বেত বাগান পুরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এমন দাবি করে গজনী বিটের সামাজিক বনের বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুলাল মিয়া বলেন, গজনী বিটের আওতায় বেত গাছ রোপণের পর আটজন উপকারভোগীর মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বেত বাগান ধ্বংসের পেছনে স্থানীয় বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকেই দায়ী করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা।

প্রতি বছর বুনোহাতির আক্রমণে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। বুনোহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে, কুটিরশিল্পকে সমৃদ্ধ করতে ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বনের নিরাপত্তার জন্য শাল বনের ভেতরে বেত বাগান করা হয়েছিল এ কথা জানিয়ে রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অসচেতন মানুষের দেওয়া সৃষ্ট আগুনে বেতগাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবু বন বিভাগের পক্ষ থেকে তা রক্ষার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে।