বকশীগঞ্জ পৌরসভার স্থগিত একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর
জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের গেজেট প্রকাশ এবং স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত করার দাবি জানিয়েছেন এ নির্বাচনে মেয়র পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগনেতা মো. নজরুল ইসলাম ও নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ। বকশীগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় একটি বাস কাউন্টারে ৭ মার্চ দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বকশীগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। মোট ১২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে আটটি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন। কিন্তু উপজেলার মালিরচর হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী ভোট কেন্দ্রে ভোট চলাকালে জালভোট দেওয়া নিয়ে গোলোযোগের কারণে দায়িত্বরত নির্বাহী হাকিম ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। ১১টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জগ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৯৯ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফখরুজ্জামান পেয়েছেন ৭ হাজার ৭০৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম। স্থগিত ওই একটি কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ১ হাজার ৫২৮ জন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে থাকা নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম অযথা হয়রানি করার উদ্দেশেই উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে স্থগিত ওই একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ দীর্ঘ সূত্রিতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। ওই একটি কেন্দ্রের সব ভোট পেলেও মেয়র পদে শাহীনা বেগম পরাজিতই রয়ে যাবেন। স্থগিত ওই একটি কেন্দ্র নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফখরুজ্জামান আদালতে অভিযোগ দাখিল করলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়।

জগ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ১১টি কেন্দ্রের ফলাফলে নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে আটটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলরদের গেজেটও প্রকাশ করা হচ্ছে না। আর দেরি সহ্য হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থগিত কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা না করা হলে পৌরসভার সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।