সম্পাদকীয় : পদ পদবিতে বাংলা শব্দ ব্যবহারের জোর দাবি

বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অন্যতম একটি স্মরণীয় দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। রক্তঝরা মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরবগাঁথা এই দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ভাষা আন্দোলন আজ মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

বছর ঘুরে আবারও এসেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শহীদ ভাইদের রক্তদানে অর্জিত বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও ভাষা আন্দোলনের ৬৮টি বছর পরও সর্বস্তরে বাংলাভাষা আজো চালু হয়নি। সরকারি পদ পদবিতে এখনও বৃটিশ ও পাকিস্তানী আবরণে ঢেকে রাখা হয়। অধিকাংশ কর্মকর্তাই বাংলার বদলে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারকে মর্যাদাপূর্ণ মনে করে থাকেন। যা বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।

অধিকাংশ সভা, কর্মশালায় নিজেদের পাণ্ডিত্য ফলাতে ইংরেজি ভাষার অসংলগ্ন ব্যবহার করে গর্ববোধ করেন। অনুষ্ঠানে শতভাগ বাংলা ভাষাভাষি অংশগ্রহণ করলেও আয়োজক সংস্থা ইংরেজিতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করে থাকেন। উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে বক্তব্য অথবা বিষয়বস্তু বোধগম্য হোক আর না হোক আয়োজকদের উদ্দেশ্য সফল হলেই হলো। সরকারি, বেসরকারি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হরহামেশা অকারণেই ইংরেজি ব্যবহার করা বিলাসিতায় রূপ নিয়েছে। বাংলা ভাষার প্রতি এই অবমাননা সহ্য করার মতো নয়।

আমরা বাংলারচিঠি ডটকমের মাধ্যমে নিয়মিত চেষ্টা করছি পদ পদবি থেকে শুরু করে প্রতিটি সংবাদ বা লেখায় বাংলা শব্দ ব্যবহার ব্যবহার করার। আমাদেরও অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকে। তবে আমরা বাংলা ভাষা প্রয়োগ, ব্যবহার এবং স্বাভাবিক জীবনাচরণেও চর্চা করছি।

আসুন এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মহান শহীদদের আত্মদানের মর্যাদা এবং তাদের বিদেহী আত্মার সন্তুষ্টির জন্য সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চর্চা ও ব্যবহারের অঙ্গীকার করি। প্রতিটি পদ লেখি বাংলা শব্দে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলারচিঠি পরিবারের পক্ষ থেকে সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী এবং সহযোদ্ধাদের জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা।

জাহাঙ্গীর সেলিম
সম্পাদক, বাংলারচিঠি ডটকম