ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আহ্বান ল্যানসেটের দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে শেরপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ জামালপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ নিরাপদ সড়কের জন্য রোড-শো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

সরিষাবাড়ীতে হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করলো এক শিক্ষক

শিক্ষকের বেতের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী শিহাব। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

শিক্ষকের বেতের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী শিহাব। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মহাদান ইউনিয়নে এক হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র শিহাব (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষক বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ১৪ মার্চ সকালে উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের শ্যামেরপাড়া রহমানিয়া হাফিজিয়া কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবার ও এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।

আহত শিক্ষার্থী শিহাব বলে, আমি তিনবছর যাবৎ এই মাদরাসায় কোরআন শিক্ষা নিচ্ছি। আমার মাদরাসায় একজন নতুন শিক্ষক এসেছেন এক মাস ধরে। ১৪ মার্চ সকাল সাড়ে সাতটায় প্রতিদিনের মতো সবাই পড়তে বসেছি। জোনাইদ হুজুর আমাকে ডেকে ছবক শুনাতে বলেন। আমি বলেছি যে হুজুর আমার পড়া শেখা হয়নি দুপুরে ছবক শুনাবো। এটা বলার সাথে সাথে আমাকে কাঁচা বাঁশের বেত দিয়ে দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে হুজুর চলে যেতে বলেন। আমি কোরআন শরিফটি মাদরাসার তাকে রেখে বাইরে যাবার চেষ্টা করলে আবারো দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। পরে চিৎকার করে বাড়িতে গিয়ে বাবা ও চাচিদের জানাই।

শিক্ষার্থীর চাচি সুফিয়া বেগম বলেন, মা মরা ছেলেটিকে আমরা মানুষ করছি। কোরআনের হাফেজ বানাবো বলে ওই মাদরাসায় পড়তে দিয়েছি। এভাবে ছেলেদের মারধর করলে কিভাবে হাফেজ হবে। এই ঘটনার বিচার দাবি করি আমরা।

শিক্ষক জোনাইদ আহম্মেদ শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমরাও তো হুজুরদের কাছে পড়েছি এর চেয়েও বেশি মারতেন। কখনো তো অভিভাবকদের জানাতে পারি নাই। সবাইকে ছবক দিতে বলেছি কেউ পেরেছে কেউ পারেনি। যারা পায়নি তাদের সবাইকে তো শাসন করেছি। শিহাব কোরআন ধাক্কা দিয়ে তাকে রাখার কারণে ওকে শাসন একটু বেশি করেছি। তাতে ওর পরিবারের সবাই আমাকে জুতা দিয়ে মারতে এসেছে।

এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, ঘটনা আমি শুনেছি, ওইভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি।

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এলাকার মাতাব্বরগণ বসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

সরিষাবাড়ীতে হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করলো এক শিক্ষক

আপডেট সময় ০৮:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০১৯
শিক্ষকের বেতের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী শিহাব। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মহাদান ইউনিয়নে এক হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র শিহাব (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষক বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ১৪ মার্চ সকালে উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের শ্যামেরপাড়া রহমানিয়া হাফিজিয়া কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবার ও এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।

আহত শিক্ষার্থী শিহাব বলে, আমি তিনবছর যাবৎ এই মাদরাসায় কোরআন শিক্ষা নিচ্ছি। আমার মাদরাসায় একজন নতুন শিক্ষক এসেছেন এক মাস ধরে। ১৪ মার্চ সকাল সাড়ে সাতটায় প্রতিদিনের মতো সবাই পড়তে বসেছি। জোনাইদ হুজুর আমাকে ডেকে ছবক শুনাতে বলেন। আমি বলেছি যে হুজুর আমার পড়া শেখা হয়নি দুপুরে ছবক শুনাবো। এটা বলার সাথে সাথে আমাকে কাঁচা বাঁশের বেত দিয়ে দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে হুজুর চলে যেতে বলেন। আমি কোরআন শরিফটি মাদরাসার তাকে রেখে বাইরে যাবার চেষ্টা করলে আবারো দুই কাধে দশটির মতো বেত মারেন। পরে চিৎকার করে বাড়িতে গিয়ে বাবা ও চাচিদের জানাই।

শিক্ষার্থীর চাচি সুফিয়া বেগম বলেন, মা মরা ছেলেটিকে আমরা মানুষ করছি। কোরআনের হাফেজ বানাবো বলে ওই মাদরাসায় পড়তে দিয়েছি। এভাবে ছেলেদের মারধর করলে কিভাবে হাফেজ হবে। এই ঘটনার বিচার দাবি করি আমরা।

শিক্ষক জোনাইদ আহম্মেদ শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমরাও তো হুজুরদের কাছে পড়েছি এর চেয়েও বেশি মারতেন। কখনো তো অভিভাবকদের জানাতে পারি নাই। সবাইকে ছবক দিতে বলেছি কেউ পেরেছে কেউ পারেনি। যারা পায়নি তাদের সবাইকে তো শাসন করেছি। শিহাব কোরআন ধাক্কা দিয়ে তাকে রাখার কারণে ওকে শাসন একটু বেশি করেছি। তাতে ওর পরিবারের সবাই আমাকে জুতা দিয়ে মারতে এসেছে।

এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, ঘটনা আমি শুনেছি, ওইভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি।

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এলাকার মাতাব্বরগণ বসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।