জামালপুর পৌর শহরে মাদক কারবারি, মাদকাসক্তদের ব্যাপক উৎপাত, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাসসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি ও শান্তি বিঘ্নকারী দুর্বৃত্ত ইমনসহ অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন করেছে জামালপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও তিরুথা সমাজ উন্নয়ন কমিটি।
২৭ মার্চ, শুক্রবার দুপুরের দিকে পৌর শহরের তিরুথা এলাকায় তিরুথা-জামালপুর শহর সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানবাধিকারকর্মী এবং তিরুথা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিমের সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মিয়ার উদ্দিন মাস্টার, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লানজু, তিরুথার মো. ফারুক হোসেন, নাকাটি মোল্লাবাড়ী এলাকার শফিকুল ইসলাম মোল্লা, উদয়ন ক্লাবের সভাপতি মেহেদী হাসান, সন্ত্রাসী হামলায় আহত শাহজাহানের ভাই মো. মানিক মিয়া, মাদক কারবারিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি রায়হান বাবু, তিরুথা-বামুনপাড়া মসজিদের ইমাম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মাদক সকল অপরাধের জন্মদাতা। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের সহায়ক শক্তি হিসাবে সামাজিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। এলাকায় চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও তাদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে চুরি, ছিনতাইসহ ধারাবাহিক নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ সংঘটিত করলেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করার সাহস পায় নাই। তাদের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে এখন রাস্তায় নেমে এসেছে। গণসাক্ষর নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর যেন প্রশাসন ইমনসহ অন্যান্য মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করে।
ভুক্তভোগী রায়হান বাবু বলেন, আমার তিনটি মটর চুরি করেছে ইমন ও তার দল। তিনি মটর উদ্ধারসহ ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সন্ত্রাসী হামলায় গুরুত আহত শাহাজাহানের ভাই মানিকও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের নেতা সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ঘোষণা দিয়েছেন মাদকের সাথে দলীয় কোন নেতা-কর্মী জড়িত থাকলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

মানববন্ধনে বামুনপাড়া, রামনগর, তেতুলিয়া, দেউরপাড়, ধোপাকুড়ি, নাকাটি গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানবন্ধনে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মাদকের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 


















