শেরপুরের ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নান আর নেই

প্রয়াত সৈয়দ আব্দুল হান্নান

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠি ডটকম

শেরপুরের ভাষাসৈনিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান (৮৭) আর নেই। তিনি ৮ জানুয়ারি ভোরে রাজধানী ঢাকার সিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বিকেল পাঁচটায় শেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নানের মরদেহ শহরের মধ্যশেরি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানুসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাষা সংগ্রামী ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ হিসেবে সৈয়দ আব্দুল হান্নান শেরপুরের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। স্থানীয়ভাবে যিনি ‘হান্নান স্যার’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।

সৈয়দ আব্দুল হান্নান ১৯৩২ সালে ২৫ ডিসেম্বর শেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সৈয়দ আব্দুল হালিম, মা রাবেয়া খাতুন। ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার দাবিতে মিছিল চলাকালে তিনি ও পরে তার বড় ভাই ছাত্রনেতা সৈয়দ আব্দুস সাত্তার গ্রেপ্তার হন।

১৯৫২ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে তিনি আইএসসি পাস করে ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫৬ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার্স এবং ১৯৬৪ সালে এলএলবি পাস করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেরপুরের বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করার অপরাধে তাকে তিন বার গ্রেপ্তার করে প্রায় চার মাস জেলে রাখা হয়।

১৯৬৪ সালের ১৬ জুলাই তিনি শেরপুর কলেজে (বর্তমানে শেরপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ওই কলেজ থেকেই অবসরে যান।

sarkar furniture Ad
Green House Ad