বাংলাদেশ বিশ্বের ৮০টি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে : মোস্তাফা জব্বার

বাংলার চিঠি ডটকম ডেস্ক॥
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৮০টি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে।

৬ অক্টোবর রাজধানীতে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ-শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

নেপাল ও নাইজেরিয়ায় কম্পিউটার ও ল্যাপটপ রপ্তানি হচ্ছে জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী। নতুন প্রজন্মের বিপুল সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে চলমান ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবকে গতিশীল করতে কাজে লাগাতে না পারলে বিশাল জনসম্পদ আগামী দিনের বিস্ময়কর ডিজিটাল প্রযুক্তি আইওটি,রোবটিক, বিগডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা ৫জি‘র কারণে কমর্-বিমুখ হয়ে পড়বে।

ঢাকার জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ছাড়া উন্নত জাতি গঠন করা যায় না, এই উপলব্দি থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংস স্তুপে দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয় করণ করেছিলেন। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এই মহান রাষ্ট্রনায়ক ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জন করেছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি স্থাপনে বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ইতিহাস শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলেই হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালে বৈপ্লবিক যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার মোবাইলের মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করেন এবং কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স ভ্যাট প্রত্যাহার করে কম্পিউটার সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে রাখেন।

গত সাড়ে ৯ বছরে তথ্যযোগাযোগ খাতে অগ্রগতির তুলনা মূলক পার্থক্য বর্ণনা করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দেশে ৪কোটি ৪৬ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হতো, যা ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পনোরো কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ৪০ লাখ । বর্তমানে তা ৯ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম লাইব্রেরী। ২০১৯ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে যাবে।

মোস্তাফা জব্বার ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণের আবশ্যকতা তুলে ধরে বলেন, মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ভাগ তরুণ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারলে বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে বাংলাদেশের অগ্রগতির অগ্রযাত্রা থামানো যাবেনা। তাদেরকে মানব সম্পদে পরিণত করতে অতীতমুখী শিক্ষার পরিবর্তে তাদেরকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করার বিকল্প নেই।
সূত্র : বাসস

sarkar furniture Ad
Green House Ad